E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মা-বাবার কাছে ফিরছে সেই শিশু, সমিতিকে তুলোধোনা হাই কোর্টের

মামলাকারী দম্পতির আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট বিবেচনা না করেই শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ করতে শুরু করে সমিতি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শিশু কল্যাণ সমিতির জিম্মা থেকে বাবা-মায়ের কোলেই এক শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নর্দমা থেকে ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করা হয়েছিল। হাসপাতাল ঘুরে তার ঠাঁই হয় শিশু কল্যাণ সমিতির হোমে। পরে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার ঘোষণা করে সমিতি। সমিতির সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সন্তানকে ফিরে পেতে হাই কোর্টে মামলা করেন বাবা-মা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের নির্দেশ, আগামী ৬ মার্চ শিশুটিকে হাই কোর্টে নিয়ে আসবেন শিশু কল্যাণ সমিতির আধিকারিকেরা। উপস্থিত থাকবেন তার বাবা ও মা। সে দিনই দুপুর ১টা নাগাদ বিচারপতির সামনে বাবা-মায়ের হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হবে।

এ দিন মামলাকারী দম্পতির আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট বিবেচনা না করেই শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ করতে শুরু করে সমিতি। তিনি জানান, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, সদ্যোজাতকে দোতলার ঘর থেকে ফেলে দিয়েছিলেন তার দিদিমা। অভিযোগ, মেয়ের বৈবাহিক সম্পর্ক মানতে না পেরে এবং পরিবারের ‘মর্যাদা রক্ষা’য় ওই কাজ করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে মৃত্যু হয় শিশুটির দিদিমার। ময়ূখের আরও অভিযোগ, পুলিশের রিপোর্ট ছাড়াও শিশুটির ডিএনএ রিপোর্টও উপেক্ষা করেছে সমিতি। ডিএনএ রিপোর্টে ওই দম্পতি যে শিশুর বাবা-মা, তা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে। তার পরেও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার একাধিক আবেদন খারিজ করে সমিতি এবং তথ্যপ্রমাণ বিবেচনা না করে বিভ্রান্তিকর ও ভুল রিপোর্ট দিয়ে মাকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে।

আদালতে পেশ করা নথি ও তথ্য বিবেচনা করে শিশু কল্যাণ সমিতির উপরে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি রাও। তিনি বলেন, ‘‘ডিএনএ পরীক্ষায় মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব প্রমাণের পরেও কেন শিশুটিকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি? কী যুক্তিতে পুলিশের রিপোর্ট বিবেচনা না করে বাবা-মায়ের থেকে শিশুটিকে আলাদা করে রেখেছে সমিতি?’’ সমিতির উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনারা শিশুটিকে নিয়ে খেলা করছেন। কী উদ্দেশ্য আপনাদের? শিশু বিক্রি করছেন, এমন খবর তো হামেশাই হয়! এখনই সময় ঠিক করুন, কবে শিশুটিকে কোর্টে নিয়ে আসবেন এবং মায়ের হাতে তুলে দেবেন।’’ এর পরেই বিচারপতি জানান, ৬ মার্চ দুপুর ১টা নাগাদ হাই কোর্টের মধ্যেই বাবা-মায়ের কাছে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেবে শিশু কল্যাণ সমিতি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Child Welfare Society

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy