স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশেই কলকাতায় ৪৫টি বেআইনি বাড়ি তৈরি হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরে দাবি সিবিআইয়ের। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ওই সব অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অনুসন্ধান করছে সিবিআই। তদন্তকারীদের কথায়, ওই সব অবৈধ বাড়িতে বসবাসকারীরা ভুয়ো ঠিকানা তৈরি করেছেন। সেই ঠিকানা পুরসভার নথিতে নেই। ফলে দিতে হয় না পুর কর। নারকেলডাঙা, এন্টালি এবং খিদিরপুর এলাকায় ৪৫টি আবাসনে প্রায় এক মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছে সিবিআইয়ের তদন্তকারী দল।
সিবিআইয়ের দাবি, এই সব বেআইনি নির্মাণের জন্য কোথাও ব্যক্তিগত নামে থাকা জমি জবরদখল করা হয়েছে। আবার কোথাও সরকারি জমি দখল করে ওই সব বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রেই পুরসভা থেকে প্রয়োজনীয় নকশার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পুরসভার নথিতে ওই সব জমির উল্লেখ থাকলেও, সেখানে বেআইনি নির্মাণ হওয়ার পরেও কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, পুরসভার নথিতে ওই সব আবাসনের উল্লেখ না থাকলেও প্রতিটি আবাসনে জলের সরকারি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দশ বছর ধরে ওই সব বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। আবাসিকেরা কোনও মিউটেশন করাননি। তাই কয়েক লক্ষ টাকা পুর কর এবং সম্পত্তি কর আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে কলকাতা পুরসভা। একাধিক এমন আবাসনও পাওয়া গিয়েছে, যেখানে পুরসভার কাছ থেকে জলের সংযোগ নেওয়ার পরে বসবাসকারীরা তাঁদের ঠিকানা আমূল বদল করে দিয়েছেন। একই কৌশলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অর্থাৎ পুরসভার স্থানীয় অফিসের আধিকারিক এবং পুরপ্রতিনিধির নজরে থাকা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে ওই সব দখল করা জমিতে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের অনুমান, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও পুরসভার সঙ্গে অবৈধ নির্মাণকারীদের সমঝোতায় ওই সব আবাসনগুলির জন্য ধীরে ধীরে জায়গা দখল করা হয়েছিল। এর পরে বাজারমূল্যের থেকে কিছুটা কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়।
অবৈধ নির্মাণকারীরা ওই এলাকারই বাসিন্দা বলে প্রাথমিক সূত্র পাওয়া গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দলের এক সদস্যের কথায়, ওই সব অবৈধ নির্মাণকারী রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদতপুষ্ট। অভিযোগ, সেই কারণেই সব কিছু জানা সত্ত্বেও পুরসভা এবং পুলিশের তরফে কোনও আইনি বাধা সৃষ্টি করা হয়নি। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী খুব শীঘ্রই অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিবিআই কর্তারা।