রাস্তার মাঝ বরাবর প্রায় দু’ফুট গভীর গর্ত! সেই গর্ত এড়িয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়া প্রায় দুষ্কর। যদি বা যাওয়া গেল, কয়েক মিটার এগোতেই চোখে পড়ল, রাস্তা থেকে পিচের প্রলেপই উঠে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, জমা জল আর এবড়োখেবড়ো রাস্তা ধরে গাড়িতে কয়েক কিলোমিটার গেলেই কোমরে ব্যথা হওয়ার উপক্রম।
শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্র এমন অসহনীয় হাল। টানা বৃষ্টিতে গত কয়েক সপ্তাহে রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে বলে দাবি নিত্যযাত্রী ও স্থানীয়দের। বেহাল রাস্তার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। দুর্গাপুজোর আগে রাস্তার এই অবস্থার বদল ঘটাতে পুরসভা-সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরে চিঠি দিল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ড ধরে রাস্তার নাম দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। কোন রাস্তায় কী ধরনের মেরামতি দরকার, তা-ও উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই চিঠি যে অমূলক নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে শহর ঘুরলেই। উত্তরের চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, স্ট্র্যান্ড রোড, নিমতলা ঘাট রোড, এ পি সি রোডের পাশাপাশি দক্ষিণের আলিপুর রোড, বর্ধমান রোড, ডায়মন্ড হারবার রোড— ছবিটা কম-বেশি একই। কোনও কোনও রাস্তায় কয়েক হাত অন্তর তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত, কোথাও সেই গর্তে জল জমে পরিস্থিতি হয়েছে ভয়াবহ। বহু রাস্তার বেশির ভাগ অংশ থেকে পিচ উঠে যাওয়াও নজরে এসেছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে নিয়মিত যানজট হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীরা। চিড়িয়াখানা সংলগ্ন রাস্তায় কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মী বললেন, ‘‘দুপুরের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো গেলেও সকালে এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়েই ভোগান্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। গাড়ি প্রায় এগোচ্ছেই না।’’
কলকাতায় অ্যাপ-বাইক চালান শ্যামল মণ্ডল। তাঁর কথায়, ‘‘রাস্তার খারাপ অংশ বাঁচিয়ে চালক ভাল অংশ দিয়ে গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। সামনের গাড়ি আচমকা এমন বাঁক নেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অথচ রাস্তার হাল এমন যে, গাড়ির চালককে কিছু বলাও যাচ্ছে না।’’
কলকাতা পুরসভার তরফে পুলিশের চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে। পুরসভার রাস্তা বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, তাঁরা রাস্তার তালিকা পেয়েছেন। দুর্গাপুজোর আগেই সংশ্লিষ্ট সব রাস্তা সংস্কার করা হবে। পুরসভার তরফে ইতিমধ্যে জোড়াতাপ্পি দেওয়ার কাজ চলছে। কিন্তু, প্রতিদিনই প্রায় বৃষ্টি হওয়ায় সেই কাজে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটছে। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘নাগাড়ে বৃষ্টি হলে পিচ ঢালা সমস্যার। বৃষ্টি কমলেই সমস্ত রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হবে।’’