E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ডেঙ্গি সংক্রমণে দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা, উদ্বেগ কমেনি এখনও

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ চলতি বছরের ৪০তম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০১৭৭। গত বছরের ৪০তম সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১২৬৫২।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫২

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে এখনও নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, জেলা প্রশাসন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। চলতি বছরে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ১৪। তার মধ্যে চলতি অক্টোবরেই মারা গিয়েছেন দু’জন।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ চলতি বছরের ৪০তম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০১৭৭। গত বছরের ৪০তম সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১২৬৫২। গত বছরের নিরিখে এ বার আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও পুরোমাত্রায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। পুজোর মরসুমে যাতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজে খামতি না থাকে, সে বিষয়ে জোর দিতে বলা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, এ বার আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে আছে মুর্শিদাবাদ। দ্বিতীয় কলকাতা, তৃতীয় উত্তর ২৪ পরগনা। যদিও বিগত বছরগুলিতে এই তালিকার শীর্ষে থাকত উত্তর ২৪ পরগনা। মন্ত্রী বলেন, ‘‘জেলা মানেই গ্রাম ভাবার কোনও কারণ নেই। জেলার শহরাঞ্চলে প্রকোপ বেশি।’’

কলকাতা পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, চলতি বছরে শহরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যান্য বছর দক্ষিণ কলকাতায় ডেঙ্গির হার বেশি থাকে। এ বার তুলনায় উত্তরে প্রকোপ বেশি, বিশেষত এক নম্বর বরো এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে। শহরে সব থেকে বেশি ডেঙ্গি ছড়িয়েছে ছয় নম্বর ওয়ার্ডে। পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ পেরিয়েছে। ডেঙ্গি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুজোর ছুটিতেও পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগ কাজ করবে। পুজো মণ্ডপ থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে কোথাও জল জমেছে কিনা বা মশার লার্ভা জন্মেছে কিনা, তা দেখা হবে। মণ্ডপে যাতে জল না জমে, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভা।

দক্ষিণ কলকাতার ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ নম্বর বরো এলাকাও ভাবাচ্ছে পুরসভাকে। মে মাসের পরে পুরসভায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তবে, ওয়ার্ডে পুরপ্রতিনিধি না থাকায় কাজের সমন্বয়ের সমস্যা থাকছে। পুরপ্রতিনিধি থাকলে ওয়ার্ডে মশাবাহিত রোগ নিয়ে তাঁরাও সচেতন থাকেন। কিন্তু তা না থাকায় মশাবাহিত রোগ মোকাবিলার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে মত পুর স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের। তাঁদের এক জনের কথায়, ‘‘পুরপ্রতিনিধি থাকলে তাঁর ওয়ার্ডে কেউ ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে সে খবর আগেভাগে পৌঁছয়। বর্তমানে পুরপ্রতিনিধি না থাকায় খবর আসতে দেরি হচ্ছে। কাজের সমন্বয়ের অভাব তো রয়েছেই।’’ যদিও কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের দাবি, সব ওয়ার্ডেই স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, আশাকর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। কোথাও কাজের সমস্যা হচ্ছে না।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Dengue Dengue Fear

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy