E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহর, চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি

বৃহস্পতিবার জলমগ্ন রইল শহর কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ। এ দিন ভোরে ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক রাস্তা জলে ডুবে ছিল দীর্ঘক্ষণ। সেই জমা জল সরতে না সরতেই ফের দুপুরে আধ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জল জমে যায় শহরের একাধিক রাস্তায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:২৪

— প্রতীকী চিত্র।

নিম্নচাপের জেরে ভোর থেকে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও বৃষ্টির খামতি নেই। তার জেরে বৃহস্পতিবার জলমগ্ন রইল শহর কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ। এ দিন ভোরে ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক রাস্তা জলে ডুবে ছিল দীর্ঘক্ষণ। সেই জমা জল সরতে না সরতেই ফের দুপুরে আধ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জল জমে যায় শহরের একাধিক রাস্তায়।

এ দিন অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থেকেছে উত্তরের বিটি রোড, কাশীপুর রোড, ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, জিটি রোড থেকে শুরু করে দক্ষিণের ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্কের একাধিক রাস্তা, বালিগঞ্জ প্লেস, পার্ক সার্কাস কানেক্টর, তপসিয়া মোড়, রুবি মোড়, পার্ক সার্কাস, আনন্দপুর-সহ একাধিক রাস্তা। তবে, একটানা বৃষ্টি ডেঙ্গির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের আশঙ্কা, ‘‘শহরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে। এখন যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষকে ভীষণ সচেতন থাকতে হবে। কোথাও কোনও ভাবেই জল জমতে দেওয়া চলবে না। মনে রাখতে হবে, পরিষ্কার জমা জলই ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার লার্ভা জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ।’’

পুর নিকাশি দফতর সূত্রের খবর, এ দিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে যোধপুর পার্কে (১১৫ মিলিমিটার)। এ ছাড়া তপসিয়ায় ১০৫ মিলিমিটার, পামারবাজারে ৯৫ মিলিমিটার, ধাপা সংলগ্ন পাগলাডাঙায় ৯৮ মিলিমিটার, ঠনঠনিয়ায় ৯৫.২ মিলিমিটার, বালিগঞ্জে ৮৯ মিলিমিটার, কালীঘাটে ৭৯ মিলিমিটার, মানিকতলায় ৭৭ মিলিমিটার, মার্কাস স্কোয়ারে ৭৪ মিলিমিটার এবং বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পুর নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘উত্তরের ঠনঠনিয়া ও দক্ষিণের ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্কে নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। ওই দু’টি জায়গায় জল জমে আছে। তবে শহরের অন্যান্য অংশে জল জমলেও তা সরে গিয়েছে।’’ যদিও দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের জেরে উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন অংশে জল জমে বিপত্তি বাড়ে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে জমা জলে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। দুপুরের দিকে ফের এক দফা বৃষ্টিতে জল জমলে যানজট হয়। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোডের একাংশে জল জমায় শ্যামবাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের একটা বড় অংশ দীর্ঘক্ষণ যানজটের কবলে পড়ে।

এ দিন সকালে ই এম বাইপাসের রুবি মোড় থেকে আনন্দপুর যাওয়ার রাস্তা জলে থইথই করছিল। বালিগঞ্জ প্লেস, একবালপুরের একাধিক রাস্তাও দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় ছিল। ফলে সেখানে রাস্তা পারাপারে হিমশিম খেতে হয় পথচারীদের। দক্ষিণে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের জাস্টিস দ্বারকানাথ রোড, ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোড, এলগিন রোড দিনভর জলমগ্ন থাকে। উত্তরের ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি সংলগ্ন আমহার্স্ট স্ট্রিটের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। পুরসভার নিকাশি দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘বৃষ্টির জল নামা জোয়ার-ভাটার উপরে নির্ভর করে। জোয়ার থাকলে গঙ্গা সংলগ্ন লকগেটগুলি বন্ধ রাখতে হয়। জোয়ার সরলে তবে লকগেট খোলা হয়। তখন বৃষ্টির জল গঙ্গায় পড়ে।’’ তবে দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে পুরসভার নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী পাম্প ছাড়াও নিচু এলাকায় অতিরিক্ত অস্থায়ী পাম্প কাজ করছে বলে নিকাশি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Heavy Rainfall Waterlogged Dengue

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy