দু’বছর হল বাংলা আকাদেমির চারতলায় তৈরি হয়েছে রাত্রিবাসের ঘর!
রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই ঘরকে অতিথিশালা বলে অভিযোগ করেছিলেন ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিত সঙ্গীতশিল্পীদের একাংশ। তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের অধীনে থাকা বাংলা আকাদেমির ওই ঘরের ব্যবহারের ধরন নিয়ে প্রকাশ্যেই তাঁরা ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ করেছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ঘরে জরুরি ভিত্তিতে আধিকারিকদের রাত্রিবাসের জন্য একটি বিশ্রামকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। তবে, সেটি কখনওই ‘অতিথিশালা’ নয়।
সূত্রের খবর, আকাদেমির চারতলায় রয়েছে ওই ঘরটি। আগে ওই ঘরটি দু’ভাগে ভাগ করে সেখানে রবীন্দ্র রচনাবলী ও বঙ্কিম রচনাবলী তৈরির কাজ হত। রবীন্দ্র রচনাবলীর ২১টি খণ্ড তৈরির কাজ ওই ঘর থেকেই পরিচালিত হয়েছে। ২০২৩ সালে আচমকা সেই ঘর থেকে রবীন্দ্র রচনাবলী সংক্রান্ত নানা নথিপত্র, আলমারি সরিয়ে দিয়ে ঘরটি খালি করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে আধিকারিকদের রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হয়।
সেই সময়ে ওই ঘরে রবীন্দ্র রচনাবলী তৈরির কাজে নিযুক্ত থাকা রূপক চট্টরাজের দাবি, ‘‘এক দিন আচমকাই ঘরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগে থেকে কিছুই
জানানো হয়নি। ভিতরে অনেক বইপত্র ছিল। সে সব অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে রাতে থাকার ঘর তৈরি হবে বলে শুনেছিলাম। তার পরে কখনও ওই ঘরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত ওই ঘরে কী হয়, জানি না।’’
রাজ্যে সরকার বদলের পরে সরকারি কলেজে অতিথিশালা তৈরির ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি জোর বিতর্ক হয়েছিল। অভিযোগের আঙুল ওঠে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও। তিনি বলেন, ‘‘এ সব ব্যাপারে এখনকার মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলুন। আমি কিছু জানি না।’’ কোনও মন্তব্য করতে চাননি তৎকালীন বাংলা আকাদেমির সভাপতি ব্রাত্য বসুও। এই দফতর বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রয়েছে। তবে, দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বৈঠকে থাকার কারণে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারেননি।
আধিকারিকদের একাংশের দাবি, আকাদেমির ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে আধিকারিকদের জন্য ওই বিশ্রামকক্ষ তৈরি করা হয়। তবে, ঘরটি আদৌ বিলাসবহুল নয়। ভিতরে রাত্রিবাসের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি সরঞ্জাম ছাড়া আর কিছু নেই। তাঁরা জানান, নাট্য অ্যাকাডেমিতে রাত্রিবাসের জন্য ডরমিটরির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেটি আধিকারিকদের থাকার উপযুক্ত নয় বলে আকাদেমিতে ওই বিশ্রামকক্ষ তৈরি করা হয়। কারণ, অনেক সময়ে বড় বড় অনুষ্ঠানে আধিকারিকদের অনেক রাত পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তখন দূরে বাড়ি, এমন আধিকারিকদের কেউ কেউ ওই ঘরটি রাতে থাকার জন্য ব্যবহার করেন।
যদিও যাঁরা বাংলা আকাদেমিতে ওই বিশ্রামকক্ষ নিয়ে সরব হচ্ছেন, তাঁদের প্রশ্ন, এত দিন আধিকারিকেরা কী ভাবে কাজ করতেন? তাঁরা গাড়িতে করে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সুযোগ পান। বাম আমল থেকেই আকাদেমি তল্লাটে বড় বড় অনুষ্ঠান হয়েছে। এক পদস্থ আধিকারিকের অবশ্য দাবি, রাতে হাইওয়ে ধরে বাড়ি ফেরার ঝুঁকি নিতে চান না, এমন আধিকারিকেরাই কখনও সখনও ওই ঘরে রাতে থেকে যান।