E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

স্কুলে তুলসীমালা পরা নিয়ে বিতর্ক, হুমকি প্রধান শিক্ষিকাকে

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। অষ্টম শ্রেণির ‘বি’ সেকশনের এক ছাত্রীকে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়া শিক্ষিকাদের কমন রুমে নিয়ে আসে। স্কুলের তরফে জানা গিয়েছে, অনিন্দিতা পুরকায়স্থ নামে এক শিক্ষিকাকে পড়ুয়ারা জানায়, ওই ছাত্রী তুলসীমালা পরে স্কুলে এসেছে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৮:৪৭

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

এক ছাত্রীর তুলসীমালা পরে আসা নিয়ে বিতর্ক ছড়াল কেষ্টপুরের দেশপ্রিয় বালিকা বিদ্যামন্দির স্কুলে। অভিযোগ, ছাত্রীটিকে তুলসীমালা খুলে রাখতে বলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। কেন তাকে মালা খুলে আসতে বলা হয়েছে, এর প্রতিবাদে এক দল বাসিন্দা পরদিন স্কুলে জড়ো হন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা স্কুলে এসে নিজেদের সনাতনী হিন্দু বলে পরিচয় দিতে থাকেন। প্রধান শিক্ষিকার দাবি, প্রকৃত ঘটনা কী, তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। অষ্টম শ্রেণির ‘বি’ সেকশনের এক ছাত্রীকে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েক জন পড়ুয়া শিক্ষিকাদের কমন রুমে নিয়ে আসে। স্কুলের তরফে জানা গিয়েছে, অনিন্দিতা পুরকায়স্থ নামে এক শিক্ষিকাকে পড়ুয়ারা জানায়, ওই ছাত্রী তুলসীমালা পরে স্কুলে এসেছে। অনিন্দিতা তাকে জানান, মঙ্গলবার তার অভিভাবকেরা যেন স্কুলে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।

কেষ্টপুরের ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজ়রিন নাহার জানান, সোমবার ঘটনার সময়ে তিনি স্কুলে ছিলেন না। স্কুলেরই কাজে রাজারহাট পশ্চিম চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের গৌরাঙ্গনগরের অফিসে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, “ওই ছাত্রীকে তুলসীর মালা পরতে নিষেধ করার অভিযোগ মিথ্যা। স্কুলে এসে এক দল যুবক আমাকে শাসিয়েছেন। আমার সম্পর্কে গালিগালাজ করেছেন। সব মিলিয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমেও ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে। আতঙ্কে রয়েছি। বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। সাইবার ক্রাইমেও অভিযোগ করছি।”

অনিন্দিতা বলেন, “স্কুলে গয়না পরে আসতে বারণ করা হয়। কিন্তু কেউ যদি ধর্মীয় কারণে তুলসীমালা পরে, তা হলে নিষেধ করব কেন? সেটা করাও হয়নি। অথচ পরের দিন এই নিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে অভিযুক্ত করতে স্কুলে বাইরের লোক চলে এল। এই ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত।”

নাজ়রিন জানান, বাইরের লোক স্কুলে এসে গোলমাল করায় এবং ঢোকার চেষ্টা করায় বাগুইআটি থানায় খবর দেন তিনি। যত ক্ষণে পুলিশ আসে, তত ক্ষণে স্কুলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাজ়রিন বলেন, ‘‘জানতে পারি, উত্তেজিত জনতা বলছে, আমি ওই ছাত্রীকে তুলসীমালা পরে স্কুলে আসতে বারণ করেছি। এটাও শুনি, মালা নাকি আমি ছিঁড়ে দিয়েছি। অথচ, এগুলির কোনওটাই করিনি। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের সনাতনী হিন্দু বলে পরিচয় দিতে থাকে। আমি সংখ্যালঘু বলে অপসারণের হুমকিও দেওয়া হয়।’’

স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য, ‘‘দলের তরফ থেকে হস্তক্ষেপ করিনি। তবে তুলসীমালা পরে স্কুলে আসা যাবে না, এই নিষেধাজ্ঞা কী ভাবে দেন প্রধান শিক্ষিকা?’’ ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, “গয়না পরিয়ে মেয়েকে স্কুলে পাঠাই না। তুলসীমালা পরেও যাওয়া যাবে না? অবশ্য স্কুল শেষ পর্যন্ত বলেছে, তুলসীমালা পরা নিয়ে আপত্তি নেই।”

বাগুইআটি থানার এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছে। স্কুল এবং প্রধান শিক্ষিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।’’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক কিংশুক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘স্কুল পরিসর সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে থাকাই বাঞ্ছনীয়। এত দিন তা-ই হয়ে এসেছে। এ বার কী হবে, ভবিষ্যৎই বলবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকা উচিত, তবে কখনও কখনও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি রাখতে কিছু কৌশলগত পন্থা নেওয়া যেতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক ঝড় তোলা বাঞ্ছনীয় নয়।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
school student kestopur Controversy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy