E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সরকারি উদ্যোগে পাঁচতারা হোটেল তৈরির ভাবনা সুন্দরবনে, বিতর্ক

মিঠুন জানান, সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থা ও এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। সূত্রের খবর, এ দিন মিঠুনের সঙ্গে বৈঠকে পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বন দফতরের কর্তা, জেলা ও ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৫

— ফাইল চিত্র।

সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থার হাল ফেরাতে সরকারি উদ্যোগে সেখানে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ!

দু’দিনের জন্য সুন্দরবন বেড়িয়ে রবিবার ফেরার পথে ক্যানিংয়ে মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর এমন ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি তরফেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

মিঠুন বলেন, ‘‘দেশের অন্যান্য এলাকায় জঙ্গল-সাফারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যগুলি প্রচুর অর্থ রোজগার করছে। সুন্দরবনে সেই সুযোগ নেই। তাই বাঘের দর্শন যাতে পর্যটকেরা বেশি পান, তাই সুন্দরবনের নির্জন দ্বীপে কাঠের পাঁচতারা হোটেল তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’’ একই সঙ্গে অবশ্য এলাকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। মিঠুনের কথায়, ‘‘স্থানীয় বাসিন্দাদের ৭০-৮০ শতাংশকে কাজে নিতে হবে। ডলফিন সাফারি, ধর্মীয় পর্যটনের উন্নয়ন ঘটানোরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’’

সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘আমরা সেই সব নির্জন দ্বীপেই এই হোটেল তৈরির পরিকল্পনা করব, যেখানে বন্যপ্রাণের ক্ষতি হবে না। পরিবেশ ধ্বংস করে কিছু করার বিষয় সরকার সমর্থন করে না। সুন্দরবনের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’’ ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।
তবে যে সব দ্বীপে জঙ্গল এবং বন্যপ্রাণ নেই, সেখানে এই হোটেল তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কংক্রিটের নির্মাণ হবে না। পরিবেশের কোনও ক্ষতি যাতে না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখা হবে বিশেষ ভাবে। পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, ‘‘আমার জানা নেই, উনি (মিঠুন) ঠিক কী বলেছেন! না জেনে মন্তব্য করতে পারব না।’’ তবে, তিনি মানছেন, জঙ্গলে হোটেল হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে।

মিঠুন জানান, সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থা ও এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। সূত্রের খবর, এ দিন মিঠুনের সঙ্গে বৈঠকে পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বন দফতরের কর্তা, জেলা ও ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কলকাতায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমস্ত বিষয় তুলে ধরবেন বলেও জানিয়েছেন মিঠুন।

কিন্তু এমন পরিকল্পনা মানতে পারছেন না পরিবেশকর্মীরা। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘‘এটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি এ রকম কিছু হয়, আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য আন্দোলন করব। প্রয়োজনে আইনের দ্বারস্থ হব।’’ আর এক পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাম আমলেও এমন চেষ্টা হয়েছিল। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ তা বাতিল করে দেয়। কেন্দ্রও ছাড়পত্র দেয়নি। সুন্দরবনকে সংরক্ষণ করা দরকার। হোটেল তৈরির পরিকল্পনা হলে তা পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Sundarbans Five star Hotel Environmental awareness Controversy West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy