সল্টলেকের এই ব্লকের একটি বাড়ি থেকে জোড়া দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের ভিতর থেকে এক দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতেরা হলেন সজলকুমার কুণ্ডু এবং তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, দম্পতির এক ছেলে রয়েছেন। তিনি গাড়ি চালান। বাবা-মায়ের খবর নিতে সকালে বাড়িতে ফোন করেছিলেন যুবক। কিন্তু তাঁদের কেউই ফোন তুলছিলেন না। দু’জনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পাশের বাড়ির একজনকে ফোন করে বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে বলেন। দম্পতির বাড়ি গিয়ে ডাকাডাকি করেন ওই প্রতিবেশী। কিন্তু কেউই সাড়া দিচ্ছিলেন না। গেটও খোলেননি কেউ। সন্দেহ হওয়ায় তিনি আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। দম্পতির ছেলেকেও জানানো হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
খবর পেয়ে পুলিশ আসে। দম্পতির ছেলেও চলে আসেন। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। দম্পতির ছেলের কাছে আলাদা একটি চাবি ছিল। ঘরের দরজা খুলতেই দেখা যায় খাটের উপরে পড়ে আছে দু’জনের দেহ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মহিলা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু দু’জনের কী ভাবে মৃত্যু হল, তা ঘিরে রহস্য বাড়ছে। সব কিছু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বুধবার স্ত্রীকে নিয়ে উল্টোডাঙায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন দম্পতির ছেলে। ওই দিন রাত ১০টা নাগাদ বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষ বার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। বৃহস্পতিবার সকালে আবার ফোন করেন তিনি। কিন্তু দু’টি ফোনই বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীকে ফোন করেন। ঘর থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দম্পতি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়নি।