আবার উত্তপ্ত যাদবপুর। সিপিএমের একাধিক পার্টি অফিস এবং তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়ি, কার্যালয় ভাঙচুর ও সেখানে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় অন্তত ছ’টি ওয়ার্ডে তাণ্ডব চালায় বাইকবাহিনী। তারা ওই এলাকাগুলিতে সিপিএমের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। দলের পতাকা খুলে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘ দিনের কাউন্সিলর দেবব্রতের বাড়ি ও কার্যালয়েও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মূলত ওয়ার্ড নম্বর ৯৬, ৯৯, ১০১, ১০২, ১০৫ ও ১০৬ এলাকার একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, তার মধ্যে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ছিল সবচেয়ে বেশি।
সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যা থেকে যাদপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, যাদবপুরের কুসুম কাননে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়। ৯৬ ওয়ার্ডে সিপিএমের শহিদবেদিতেও হামলা চালানো হয়। ১০০ ও ১০২ নম্বর ওয়ার্ডেও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, বিজয়গড় বাজারে দেবব্রতের কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। বাড়িতে গিয়েও হুমকি এবং তাঁর দাদাকে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতী বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলার পরে দেবব্রতের পরিবারের অভিযোগ, “আমরা বারবার পুলিশকে ফোন করে ঘটনার কথা জানাই। এক ঘণ্টা পরে পুলিশ আসে।”
এ ছাড়া, ১০১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডেও অশান্তি ছড়ায়। সেখানেও মারামারি হয় বলে অভিযোগ। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ মণ্ডলের অফিসেও ভাঙচুর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে ধেয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে সেখানে গোলমাল বেশি দূর এগোয়নি। অভিযোগ, শুধুমাত্র যাদবপুর বিধানসভা জুড়ে নয়, নরেন্দ্রপুরেও তাণ্ডব চালিয়েছে বাইকবাহিনী। নরেন্দ্রপুর এলাকায় তাণ্ডবের একটি দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায় (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
এই পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম এবং তৃণমূল। অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি তারা।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে হাওড়ার বালিতে সিপিএমের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতী বাহিনী। বামেদের অভিযোগ ছিল বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি। পঞ্চাননতলা রোডে অবস্থিত দেওয়ানগাজী জ়োনাল পার্টি অফিস ও বেলুড় স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়াও তাণ্ডব চালানো হয় একাধিক কার্যালয়ে।
শুক্রবার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কোদালিয়ার সিপিএম পার্টি অফিসেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাদের দফতরে বিজেপি ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে সিপিএম। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে এলাকার একটি বহুতলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠান হয়েছে। টাঙানো হয়েছিল মোদীর ছবিও। বিজেপির অভিযোগ, এ দিন ওই বহুতলে থাকা সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য রাহুল ঘোষ-সহ কয়েক জন নেতার নির্দেশে মোদীর ছবি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এর পরেই সিপিএমের স্থানীয় দফতরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে।