দমদমের দক্ষিণ সুভাষনগরে নিজের বাড়ি থেকে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার গভীর রাতের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নামজয়া পাত্র (৩২)। এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতার বাড়ি লক্ষ্মীকান্তপুরে। শ্বশুরবাড়ি দমদমের বেদিয়াপাড়ায়। দুইবাড়ির সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ সুভাষনগরে একটি একতলা বাড়িতে তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকছিলেন জয়া।পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন তিনি। তবে পুলিশ জেনেছে যে, জয়ার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী সজল প্রামাণিক বুধবার ওই বাড়িতেই ছিলেন।
বুধবার রাতে ফোন করে কোনও সাড়া মিলছিল না জয়ার। সেই খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দরজা খুলেপুলিশ দেখে, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন জয়া। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। দেহময়না তদন্তের জন্য সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ধারালো চাকু, সিলিং পাখা ঝোলানোর এস আকৃতির লোহা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভাঙা সিসি ক্যামেরাও উদ্ধার হয়েছে।মৃতার শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। যা দেখে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, ওই চাকু এবং লোহা দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়েছে জয়াকে। দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ জয়ার এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রের খবর, জয়ার ওই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, শোভাবাজারে তাঁর বাড়িতে বুধবার সন্ধ্যায় সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিলেন সজল। জয়ার বন্ধুটিকে সজল জানিয়েছিলেন, তাঁর মোবাইল খারাপ হয়ে গিয়েছে। চাঁদনি চকে তিনিমোবাইল সারাতে যাচ্ছেন। তত ক্ষণ তাঁর সন্তানকে সেখানে রাখার অনুরোধ করেন। এ-ও জানান, কাজ সেরে তিনি বাচ্চাকে নিয়ে যাবেন। সেই বন্ধুটি সজলকে জয়ার কথা জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানিয়েছিলেন, জয়া ঘুমোচ্ছেন।
এক পুলিশকর্তা জানান, পারিবারিক অশান্তি ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তবে, তা যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে মৃতার স্বামীর খোঁজ মিলছে না।
দক্ষিণ সুভাষনগর এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনিবলে বাসিন্দাদের দাবি। ফলে, তাঁরা কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সুঠাম চেহারার এক জন জয়াদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তেজনার বশে, না কি পরিকল্পনামাফিক এই খুন, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন মৃতার স্বামী সজল। পারিবারিক অশান্তির নেপথ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে কিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হবে পুলিশ।