বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার হল এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ। রবিবার বসিরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়া এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সত্যজিৎ ঘোষ (৭০)। তিনি ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পচা-গলা দেহ দেখে
পুলিশের অনুমান, দিন দুয়েকে আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলে প্রকাশ ওই বাড়িতে থাকলেও বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল না। তিনি থাকতেন এক তলায়, ছেলে দোতলায়।
বাবা-ছেলের মধ্যে আগে একাধিক বার গোলমাল হয়েছে এবং ক্লাব ও প্রতিবেশীদের মধ্যস্থতায় তা মিটেছে। বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি ক্লাবে বসে গল্প করতেন সত্যজিৎ। গত তিন দিন তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি। রবিবার প্রতিবেশী সুনীল দাস তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ছেলে প্রকাশকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন বাবার কথা। প্রকাশ জানিয়ে দেন, তিনি বাবার খোঁজ রাখেন
না। তখনই বাড়ির ভিতর থেকে পচা দুর্গন্ধ পান সুনীল। বাড়িতে
কিছু পচেছে কি না জানতে চাইলে প্রকাশ কোনও উত্তর না দিয়ে ভিতরে চলে যান বলে অভিযোগ। পুরো বিষয়টি ক্লাবের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জানান সুনীল। এর পর প্রতিবেশী
এবং ক্লাব সদস্যেরা বাড়িতে ঢুকে শৌচাগারে সত্যজিতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় বসিরহাট থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে। দেহ উদ্ধারের পরে প্রকাশ দোতলা থেকে নেমে এলেও কোনও মন্তব্য করেননি বলেই জানান স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে প্রকাশের বিয়ে হয়েছিল। পরে দাম্পত্য অশান্তির জেরে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সত্যজিতের স্ত্রীও অনেক দিন আগে মারা গিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী ভাবে সত্যজিতের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাবার মৃত্যুতে ছেলে প্রকাশের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।