শব্দ বা ধোঁয়া নয়, উৎসব হোক আলোর— দীপাবলির আগে সমাজের সব স্তরের মানুষকে নিয়ে আলোচনায় এই দাবি উঠল। শব্দের অত্যাচার বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হল। পাশাপাশি, আশঙ্কা জোরালো হল, প্রশাসনের ঠিক করে দেওয়া বাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময়বিধি আদৌ মানা হবে তো?
মঙ্গলবার কলেজ স্কোয়্যারে মহাবোধি সোসাইটি হলে সবুজ মঞ্চের উদ্যোগে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধিরা। মূলত দীপাবলি এবং কালীপুজোকে কেন্দ্র করে বেআইনি বাজির দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। ওই আলোচনাসভায় চিকিৎসক অর্ণব সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘শব্দবাজির তাৎক্ষণিক শব্দ শুধু বধিরতা নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি করে। সবটা জেনেশুনেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে এ নিয়ে সচেতনতার বিষয়টি পিছনের সারিতেই থেকে গিয়েছে বরাবর।’’ পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দীপাবলির পরে প্রতি বার দিল্লির দূষণ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কলকাতার বায়ুদূষণের মাত্রা কী ভাবে মারাত্মক হারে বেড়ে যায়, তা সে ভাবে সামনে আসে না। বাজি পোড়ানোর তাৎক্ষণিক আনন্দের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে কী বিষ উপহার দিয়ে যাচ্ছি, তা হয়তো আমরা উপলব্ধি করতে পারছি না।’’
দীপাবলির রাতে সবুজ মঞ্চের উদ্যোগে একটি কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ শব্দদূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন। এর পাশাপাশি, কলকাতা এবং বিভিন্ন জেলায় মঞ্চের প্রতিনিধিরাও সক্রিয় থাকবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ দিন আলোচনাসভায় দাবি করা হয়েছে, শব্দদূষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৯৭ থেকে রাজ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে সবুজ মঞ্চের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বাজি কারখানার বিস্ফোরণে ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবুজ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত বলেন, ‘‘সবুজ বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে ছাড়পত্র রয়েছে বলে প্রচার হচ্ছে। কিন্তু এটা বলা হচ্ছে না যে, সবুজ বাজিও দূষণ ছড়ায়। সেটা হয়তো সাধারণ অন্যান্য বাজির থেকে ৩০ শতাংশ কম। কিন্তু আমাদের মতো ঘন বসতির শহরে এই দূষণও মারাত্মক। আমরা চাই, সব ধরনের বাজি বন্ধ হোক। উৎসব হোক আলোর।’’