বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্কুলশিক্ষকদের জনগণনার কাজের এক সপ্তাহ পূর্ণ হচ্ছে আজ, সোমবার। এই সময়কালে রীতিমতো ধাক্কা খেয়েছে বিভিন্ন স্কুলের পঠনপাঠন। শিক্ষকের অভাবে অনেক স্কুলই পুরো আট পিরিয়ড করতে পারছে না। দুই থেকে তিন পিরিয়ড আগে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হচ্ছে। কিছু স্কুল জানিয়েছে, শিক্ষক-সঙ্কটের কারণে তাদের সব শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতিদিন না এনে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, পরীক্ষার আগে এই সময়টাই স্কুলের পড়াশোনার ভরা মরসুম। সেপ্টেম্বরেই প্রথম ও তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা। এই অবস্থায় এখন স্কুলে ক্লাস কমে যাওয়ায় পড়ুয়াদের উপস্থিতির হারও কমছে অনেকটা।
নারিকেলডাঙা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভাস বিশ্বাস জানান, তাঁদের স্কুলের ২০ থেকে ২২ জন শিক্ষককে জনগণনার কাজে নেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অষ্টম পিরিয়ড পর্যন্ত ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ষষ্ঠ পিরিয়ড পর্যন্ত ক্লাস করিয়ে ছুটি দিতে হচ্ছে। বিভাসের আশঙ্কা, এ ভাবে চললে আগামী এক মাস পঠনপাঠনের প্রভূত ক্ষতি হবে।
নাকতলা হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মায়া মণ্ডল জানান, তাঁদের ৪১ জনের মধ্যে ২৬ জন জনগণনার কাজে গিয়েছেন। এতে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ুয়ারা। কারণ,জনগণনার কাজে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কোনও বিষয়ের একমাত্র শিক্ষক।
মিত্র ইনস্টিটিউশন, ভবানীপুর শাখার প্রধান শিক্ষক রাজা দে জানান, তাঁরা আগে ছুটি দিচ্ছেন না। তবে, প্রতিটি ক্লাসের দুই থেকে তিনটি বিভাগের একসঙ্গে ক্লাস করাচ্ছেন। কারণ, বর্তমানে তাঁদের স্কুলে যা শিক্ষক-সংখ্যা, তাতে আলাদা করে প্রতিটি বিভাগে ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। রাজা বলেন, “সারা বছরের
মধ্যে অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসই স্কুলে ক্লাস করার মরসুম। এখনই যদি ক্লাস না হয়, তা হলে কী ভাবে প্রস্তুতি নেবে পড়ুয়ারা? দু’-তিনটি বিভাগ একসঙ্গে ক্লাস করা অত্যন্ত অসুবিধাজনক। কিন্তু বাধ্য হয়ে সেটাই করতে হচ্ছে।’’
এক শিক্ষকের প্রশ্ন, প্রথমে এসআইআর-এর কাজ, তার পরে ভোটের ডিউটি, এখন জনগণনা।
তাঁরা স্কুলে পড়ানোর জন্য সময়
দেবেন কখন? শিক্ষকদের একাংশের মতে, এই কারণেই সরকারি
স্কুলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
যদিও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, “শিক্ষকেরা যথেষ্ট দক্ষ। কী ভাবে জনগণনার কাজ ও স্কুলে পড়ানো একসঙ্গে করতে হবে, তাঁরা তা জানেন।” যদিও এক শিক্ষকের প্রশ্ন, ‘‘বেশ কিছু স্কুল আছে, যেখানে শিক্ষক বেশি অথচ পড়ুয়া হাতে গোনা। সেখান থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষকদের এই কাজে নেওয়া হচ্ছে না কেন?”