ঠিক এক বছরের মাথায় ময়দান সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্টেশনে পৌঁছে গেল ‘দুর্গা’! প্রায় ১.৭ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করল এই টানেল বোরিং মেশিনটি (টিবিএম)। অর্থাৎ জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের কাজ আরও এক ধাপ এগোল।
কংক্রিটের দেওয়াল ফুঁড়ে বেরিয়ে এল ‘দুর্গা’। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া স্টেশন পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হল। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন মেট্রোরেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেপালের কনসাল জেনারেল, কলকাতা পুরসভার কমিশনার, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার-সহ অনেকে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, বাকি কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে। অতীতে এসপ্লানেড থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত পথে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর সুড়ঙ্গ খননের সময়ে টিবিএম ‘উর্বী’র ক্ষেত্রে এই ঘটনা চোখে পড়েছিল।
জোকা-বিবাদী বাগ (পার্পল লাইন) ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করছেন কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে জোকা থেকে তারাতলা পর্যন্ত পরিষেবা চালু হয়েছিল। পরে তা সম্প্রসারণ হয়। বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো ছুটছে। তবে তারাতলা থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত এই মেট্রো পথের কাজ বার বার নানা কারণে আটকে ছিল। কখনও জমির সমস্যা, কখনও আবার গাছ কাটা নিয়ে আপত্তি। বিষয়টি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত বছর সেই জট কাটার পর মেট্রোর কাজে গতি আসে।
গত বছর ১০ জুলাই খিদিরপুরের সেন্ট টমাস স্কুলের জমিতে টানেল বোরিং মেশিনের ‘লঞ্চিং শ্যাফ্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। সেই জায়গা থেকেই বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করে। চেন্নাই থেকে আনা হয় মেশিনটি। এক বছর ধরে খনন করতে করতে সেই মেশিন শুক্রবার ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে এসে পৌঁছোল। ‘দুর্গা’ ছাড়াও ‘দিব্যা’ নামে আরও একটি বোরিং মেশিন রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই মেশিন দিয়ে খনন কাজ হবে। পরের ধাপে ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খনন করবে ‘দিব্যা’। এই মেট্রোর দ্বিতীয় পর্বের কাজ হল, ময়দান এলাকায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশ দিয়ে পার্ক স্ট্রিট ছুঁয়ে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত সুড়ঙ্গ নির্মাণ।
আরও পড়ুন:
জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রোর পাঁচ কিলোমিটার সুড়ঙ্গপথে চারটি স্টেশন তৈরি হওয়ার কথা। সেই চারটি স্টেশন হল: খিদিরপুর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, পার্ক স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যানেড। ২০১০ সাল নাগাদ কাজ শুরুর পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে নানা বাধায় বহু বার থমকেছে জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্প।