টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ব্যারাকপুর স্টেশনে প্রায়ই রেললাইন জলমগ্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্টেশনের একাধিক প্ল্যাটফর্মে লাইনে জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় চালু সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ট্র্যাক সার্কিট ঠিক মতো কাজ করে না। ওই ব্যবস্থায় ট্র্যাকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মৃদু বিদ্যুতের প্রবাহের নিরবচ্ছিন্ন অবস্থা যাচাই করে ট্র্যাকের নির্দিষ্ট অংশে ট্রেনের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। বর্ষার সময় প্রবল বৃষ্টিতে স্টেশনের ট্র্যাক জলমগ্ন হলে ওই সার্কিট ব্যবস্থায় ভুতুড়ে সঙ্কেত (ফ্যান্টম সিগন্যাল) তৈরি হতে থাকে। কারণ জল নিজে বিদ্যুতের মৃদু পরিবাহী। এর ফলে বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়ার পরিস্থিতি হলেই শিয়ালদহ-ব্যারাকপুর শাখায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটত।
এই সমস্যা মেটাতে ওই শাখায় ব্যারাকপুর স্টেশনের ১, ১ এর এ, ২ এবং ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রেললাইন ছাড়াও ডাউন সাবার্বান লাইনেও চালু ব্যবস্থায় অতিরিক্ত মাল্টি সেকশন ডিজিটাল অ্যাক্সল কাউন্টার (এম এস ড্যাক) বসানো হয়েছে। ওই যন্ত্র বৃষ্টির মধ্যেও নির্ভরযোগ্য উপায়ে কাজ করবে।
ওই ব্যবস্থায় রেললাইনের নির্দিষ্ট অংশে ট্রেনের কতগুলি চাকা প্রবেশ করল এবং তার পর সব চাকা ওই পরিসর ছেড়ে বেরিয়ে গেল কিনা, তা নির্ভুল ভাবে পরিমাপ করা সম্ভব। এর ফলে ট্র্যাকের নির্দিষ্ট অংশে ট্রেনের উপস্থিতি নিশ্চিত ভাবে জানা সম্ভব হয়। তাতে সিগন্যালিং ব্যবস্থা সচল থাকে। সম্প্রতি ব্যারাকপুর স্টেশনে ওই ব্যবস্থা বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনার নির্দেশে দ্রুত কাজ করা হয়েছে। এর ফলে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা রক্ষার কাজ অনেকটা সহজ হবে। রেল কর্তাদের দাবি, সিগন্যালিং ব্যবস্থা বিকল হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় ওই শাখায় ট্রেন চলাচল আগের চেয়ে অনেক মসৃণ হবে। শহরতলির ট্রেন ছাড়াও ব্যারাকপুর স্টেশন দিয়ে যে সব দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে, সেগুলির ক্ষেত্রেও ওই ব্যবস্থা বিশেষ কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ‘‘ওই ব্যবস্থা সিগন্যালিং পরিকাঠামো উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে রেল সর্বদা তৎপর রয়েছে।’’
শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন অংশে রেল সেতুগুলির গার্ডার বদলের মাধ্যমে সংস্কার ছাড়াও লেভেল ক্রসিং গেটের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। এর পাশাপাশি, ইয়ার্ড সংস্কার এবং সিগন্যালিং পরিকাঠামো উন্নত করে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই চেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে ওই সময় বাড়তি ট্রেন চালানোর জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে রেল সূত্রের খবর।