আবার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড। শনিবার রাতে ভবানীপুরের ৫৬ নম্বর বকুলবাগান রোডের একটি বাড়ির মিটারবক্সে আচমকা আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ভবানীপুর থানার পুলিশ ও দমকলের একটি ইঞ্জিন। গিয়েছিলেন সিইএসসি-র কর্মীরাও। দমকলকর্মীদের চেষ্টায় দ্রুত আগুন নেবানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর নেই।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ভবানীপুরের বকুলবাগান রোডের ওই বাড়ির মিটারবক্সে আচমকা আগুন লেগে যায়। বাড়ির আবাসিকেরা বুঝতে পেরে দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন। কর্মীদের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকলের তৎপরতায় বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আতঙ্কিত বাড়ির লোকজন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগে। প্রাণ যায় ন’জনের। তাঁদের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক। অভিযোগ, মাত্র ১১০০ বর্গফুট জায়গায় পাঁচটি ঘর, প্রত্যেকটির সঙ্গে লাগোয়া স্নানঘর তৈরি করা হয়েছিল। অগ্নিনির্বাপণের কোনও নিয়ম মানা হয়নি। ঘটনার পরেই বীরেশ্বরের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। নিউ মার্কেট এলাকা ছাড়াও দিঘা এবং মন্দারমণি— এই দুই জায়গায় বীরেশ্বরের দু’টি হোটেল রয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ। শুক্রবার সেখানেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে বীরেশ্বরকে পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, বুধবার ভোরে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। তার পর থেকে তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। অবশেষে শনিবার গ্রেফতার করা হয় বীরেশ্বরকে।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সক্রিয় প্রশাসন। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় ১১টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি। শনিবার আরও ছ’টি বন্ধ করা হয় বলে জানান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার নিউ মার্কেট এলাকার ১৭টি হোটেলকে শো কজ় করে দমকল। ‘শিখা ইন’-এর যে অংশে আগুন লাগে, সেটি ছাড়া তার আরও একটি অংশ ওই ভবনেরই পাঁচতলায় ছিল। দ্বিতীয় অংশটি বীরেশ্বরের থেকে উমেশ সিংহ এবং জিতেন সিংহ নামে দু’জন লিজ় (ইজারা) নিয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁদের জেরা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। হোটেলের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছে আবু জ়াফরকে। তিনি মালিক বীরেশ্বরের থেকে ‘শিখা ইন’ হোটেলটি লিজ় (ইজারা) নিয়েছিলেন। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে।