দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে আটকে রাখার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত ব্যক্তি এবং তাঁর বন্ধুকেও।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, সোনার বিনিময়ে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেন অপহৃত ওই ব্যক্তি। আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা অপহৃত ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ মিত্র। তাঁর স্ত্রী বুধবার পুলিশে অভিযোগ জানান, মঙ্গলবার অভিযুক্তেরা বিশ্বজিৎকে ফোন করে পর্ণশ্রী এলাকায় ডাকেন। ফোনে বলা হয়েছিল, তাঁদের ঋণের দরকার। বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান বিশ্বজিৎ। অভিযোগ, দু’জনকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে অভিযোগকারিণীকে ফোন করেন অভিযুক্তেরা।
পুলিশের দাবি, প্রথম দফায় অপহরণকারীদের ঠিক করা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে টাকা দেন অপহৃতের পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু তার পরেও মুক্তি দেওয়া হয়নি বিশ্বজিৎকে। উল্টে ফের মুক্তিপণ চান অভিযুক্তেরা। এ বার অনলাইনে টাকা দেয় বিশ্বজিতের পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, দু’দফায় টাকা দেওয়ার পরেও দু’জনকে না ছাড়ায় বুধবার দুপুরে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার দ্বারস্থ হন বিশ্বজিতের স্ত্রী।
তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার ওসি রাজীব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী রাতের মধ্যেই ওই দু’জনকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত পাঁচ জনের নাম প্রকাশ দাস, সৌরভ মালাকার, শিবশঙ্কর মালাকার, জোসেফ সুতার এবং দীপ প্রকাশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বিভিন্ন ফোন কল এবং অনলাইনে পাঠানো টাকা ঢোকার অ্যাকাউন্ট দেখে শনাক্ত করা হয় অভিযুক্তদের। ফের টাকার টোপ দিয়ে পর্ণশ্রী থেকে দু’জনকে ধরে পুলিশ। তাঁদের জেরা করে বাকি তিন জনকে ধরা হয়।