দশমী থেকেই কলকাতায় প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে কলকাতার সব ঘাটে বেশি সংখ্যায় বাড়ির প্রতিমাই নিরঞ্জন হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬০৪টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের পর পুলিশ বিসর্জনের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। রাতের দিকে জোয়ার আসার অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে পুলিশের তরফে। পাশাপাশি, প্রতিমা নিরঞ্জনকারীদের ছাড়া কাউকে ঘাটের কাছে দেওয়া হচ্ছে না। বিসর্জন করতেও গঙ্গার ঘাটে কাউকে বেশি দূর নামতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা বন্দরের নৌকা দিয়েও নজরদারি চলছে।
আরও পড়ুন:
দুর্গাপুজোর শেষে প্রতিমা নিরঞ্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত ছিল কলকাতা পুরসভা। বুধবার, ২১ অক্টোবর থেকে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শহরের ২৭টি ঘাটে দিনরাত বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কাজে পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৬১১ জন কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত পুরসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট, দই ঘাট, নিমতলা ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, বিচালিঘাট, শোভাবাজার ঘাট, রতনবাবু ঘাট, সর্বমঙ্গলা ঘাট এবং কুমোরটুলি ঘাট-সহ মোট ২৭টি ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভার উদ্যান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আলো, নির্মাণ ও স্বাস্থ্য বিভাগ, সেচ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য ৪৩টি মেডিক্যাল টিম এবং সাতটি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মশাবাহিত রোগের মোকাবিলায় আটটি ভেক্টর কন্ট্রোল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি, রতনবাবুর ঘাট থেকে বিচালিঘাট পর্যন্ত জলপথে এনডিআরএফের আটটি দল মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি দলে ৩৫ জন কর্মী রয়েছেন। সিভিল ডিফেন্সের ৫৬ জন স্বেচ্ছাসেবকও সাতটি মোটরচালিত নৌকা, লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া এবং ডুবুরি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া, ১২টি বায়ো-টয়লেট, ২৮টি পানীয় জলের ট্যাঙ্কার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নির্দেশিকা-সহ মাইক প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।