জামিন পেয়ে ইতিমধ্যেই বাড়ি চলে গিয়েছেন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। সেই জামিনের প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ফের রাজপথে নামছে ‘ভয়েস অব অভয়া, ভয়েস অব উইমেন’। সংগঠনের তরফে আগামী ১২ নভেম্বর আর জি কর থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিলে সাধারণ মানুষদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনই বার্তা দিলেন সংগঠনের নেতৃত্বরা।
তবে দু’বছর আগে ন্যায়বিচারের দাবির লড়াইয়ে রাজপথে প্রায় সব ধরনের আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিলে হাজির থেকেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এ বার আগের মতো তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে মিছিলে আসার কথা বলা হবে না। সংগঠনের সম্পাদক চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র বলেন, ‘‘কাকু-কাকিমার বুকের যন্ত্রণা আমরা বুঝি। কিন্তু কারও দিকে তাকিয়ে আমরা আন্দোলন করিনি। বিবেকের তাড়নায়, নৈতিকতা থেকে আন্দোলনে ছিলাম, আছি।’’
নির্যাতিতার বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বিপ্লব আরও বলেন, ‘‘আপনারাও আবার রাস্তায় নামুন। ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলনই একমাত্র পথ। তবে আপনারা না ডাকলেও মানুষ আজও রাস্তায় নামবেন।’’ পাল্টা নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘আদালতে আমরা কী লড়াই করছি, সেই খবর কি কোনও সংগঠনের কাছে আছে? প্রথম থেকেই এ বিষয়ে ওঁরা কেউ কিছু জানেন না।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘প্রত্যেকেই নিজেরটুকু গোছাতে আন্দোলন করেছেন। তাই নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধি করতে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা থাকব কেন?’’
আর জি কর আন্দোলনের পরিচিত মুখ, চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ঘটনার ৯০ দিন পরেও সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারেনি। তার পরেও এতগুলি দিন কেটে গিয়েছে। অনিকেতের কথায়, ‘‘স্বাধীন ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থার এই অবস্থা! যারা দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের ছেড়ে দিতে সহযোগিতা করছে!’’
নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশা করে এখন শুধুই হতাশা মিলছে বলেও এ দিন দাবি করেন বিপ্লব। তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষমতায় এসে সাত দিনের মধ্যে বিচার এনে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস হয়ে গেলেও শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে। আসলে কোনও শাসকই ন্যায়বিচার আনবে না।’’ ক্ষমতায় আসার আগে আর জি করের ন্যায়বিচারের পাশাপাশি, নারী সুরক্ষার বিভিন্ন কথা নতুন
সরকার বললেও বাস্তব তেমনটা নয় বলে দাবি করেন ‘নার্সেস ইউনিটি’র সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘হতাশা কাটিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জারি রাখতে রাস্তায় নামতে হবে।’’
নির্যাতিতার মা এখন বিজেপি দলের সদস্য এবং বিধায়ক। তাঁর দলের সরকার ক্ষমতায় এসে তিন পুলিশ কর্তাকে নিলম্বিত করলেও, আজও তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসেনি বলেও অভিযোগ অনিকেতের। সেই সূত্রেই ন্যায়বিচারের দাবিতে ফের রাজপথ উত্তাল করে তোলার প্রয়োজনিয়তার কথা তুলে ধরেন ‘সার্ভিস ডক্টর’স ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক সজল বিশ্বাস। তাঁর কথায়, ‘‘সন্দীপের জামিনের পরে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাই ফের পথে নামার সময় এসেছে। আগামীতে সিবিআই দফতর অভিযানও করব।’’