কোনও রেস্তরাঁয় ফলের রসের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখের উল্লেখ নেই। কোথাও বা মজুত করা খাবারে ছত্রাক পড়েছে। কোনও রেস্তরাঁর রান্নাঘরে লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, পনির, খোয়ায় ক্ষতিকারক উপাদান মিলেছে। পুজোর মরসুমে শহরের একাধিক এলাকার হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানে পরিদর্শনে গিয়ে এমনই বিস্তর অসঙ্গতি দেখতে পান খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।
সোমবার দক্ষিণ কলকাতার কসবার রাজডাঙা মেন রোড ও বেহালার হকার মার্কেটে রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানে অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ ফুড সেফটি বিভাগ। পরিস্থিতি দেখে এ দিন পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকেরা।
পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এ দিন রাজডাঙা মেন রোডের হকার বাজারের ১৯টি হোটেল, রেস্তরাঁ পরিদর্শন করে আধিকারিকেরা ৫৩টি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন। আটটিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একটি দোকানকে নোটিস ধরানো হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ কেজি বাসি খাবার ফেলে দেওয়া হয়।
পুর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, একটি রেস্তরাঁর রান্নাঘরে হলুদ গুঁড়োর প্যাকেট পরীক্ষা করে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সন্ধান মেলে। লঙ্কাগুঁড়োর প্যাকেটে সিন্থেটিক রং মিলেছে। আধিকারিকদের দাবি, পনির, খোয়ায় ভেজাল স্টার্চ মেশানো হয়েছে। অনেক খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রত্যেকটি খাবারের গায়ে উৎপাদনের তারিখ যেন উল্লেখ থাকে, তা নিয়ে দোকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। খাবারের
দোকানে কর্মীদের মাথা ঢাকতে এবং হাতে দস্তানা পরতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ দিন পুর খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকেরা কসবার একটি শপিং মলেও একাধিক রেস্তরাঁ পরিদর্শন করেন। পুর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘শপিং মলের খাবারের দোকানে কোনও অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।’’ বেহালার ৪৩টি খাবারের দোকান
পরিদর্শন করেন আধিকারিকেরা। সেখানেও একই রকম অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোনও দোকানে ফুড সেফটি সংক্রান্ত লাইসেন্সের শংসাপত্র
পাওয়া যায়নি বলে দাবি আধিকারিকদের।