রাস্তার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। তাঁর পিঠে ও কোমরে রয়েছে ক্ষতচিহ্ন। কাজে যাওয়ার সময়ে এমনই অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে দেখেছিলেন এক দিনমজুর। তিনি যোগাযোগ করেন একটি উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে। সেই সংস্থার প্রতিনিধিদের সহায়তায় খোঁজ মেলে বৃদ্ধের পরিবারের। তাঁকে বাড়ি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায়। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধের নাম মনোরঞ্জন মণ্ডল। বাড়ি পাতিপুকুরের বিধানপল্লিতে। পাতিপুকুর মাছবাজারে মাছ বিক্রি করতেন মনোরঞ্জন। তাঁর ছেলে দমদমে অটো চালান।
জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে নিখোঁজ হয়ে যান মনোরঞ্জন। দমদম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। পরিজনেরা ভেবেছিলেন, বৃদ্ধ ব্যবসার কাজে কোথাও গিয়েছেন। কাজ শেষ হলে ফিরে আসবেন। সম্প্রতি নামখানায় বাবলু খাটুয়া নামে এক দিনমজুর কাজে যাবার সময়ে একটি নির্জন রাস্তার ধারে ওই বৃদ্ধকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বৃদ্ধের পিঠে ও কোমরে ছিল গভীর ক্ষত। বাবলু এবং অন্যেরা মনোরঞ্জনকে উদ্ধার করে নিজেদের কাছে রেখে তিন দিন ধরে শুশ্রূষা করেন। পাশাপাশি, ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের (হ্যাম রেডিয়ো) সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাবলু। হ্যাম রেডিয়োর দুই প্রতিনিধি সুব্রত দাস ও দিবস মণ্ডল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। খবর পেয়ে পুলিশও আসে।
পরে হ্যাম রেডিয়োর তরফে শুরু হয় বৃদ্ধের বাড়ির খোঁজ। তিনি নিজে ঠিকানা বলতে পারেননি। শেষে বৃদ্ধের ছবি বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে শুরু হয় ঠিকানার সন্ধান। সেই সূত্রে হ্যাম রেডিয়োর দুই প্রতিনিধি পাতিপুকুরে মনোরঞ্জনের ছেলে স্বপন মণ্ডলের খোঁজ পান। উদ্ধারকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের অনুমান, মনোরঞ্জনকে গাড়ি ধাক্কা মারায় তাঁর কোমরে ও পিঠে গভীর ক্ষত হয়েছিল। যদিও কবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়।
ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগবিশ্বাস জানান, কেন ওই বৃদ্ধ দমদম থেকে নামখানায় গেলেন, তা জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ব্যবসার কাজেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।