E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বাঁচবে ঐতিহাসিক তেঁতুলতলা, চিন্তামুক্তি প্রোমোটার-আশ্বাসে

ইতিহাস বলছে, পরাধীন ভারতে অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী পারুল মুখোপাধ্যায়। ১৯৩৫ সালে টিটাগড় বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় আরও দুই বিপ্লবীর সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন পারুল।

স্বাতী মল্লিক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৩

—প্রতীকী চিত্র।

বাঘা যতীনের বিদ্যাসাগর কলোনিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পোঁতা, প্রায় ৮০ বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ আজও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে। তবে নির্মাণকাজের দৌলতে এলাকায় একাধিক বৃক্ষ ছেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই তেঁতুলগাছটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন পরিবেশপ্রেমীরা। শনিবার তেঁতুলতলায় আসা বন দফতরের কর্মীদের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার গাছটি না কাটার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আপাতত সেই চিন্তার অবসান হল বলেই মনে করছেন তাঁরা।

ইতিহাস বলছে, পরাধীন ভারতে অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী পারুল মুখোপাধ্যায়। ১৯৩৫ সালে টিটাগড় বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় আরও দুই বিপ্লবীর সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন পারুল। জেল খেটে মুক্তি পান ১৯৩৯ সালে। স্বাধীনতার পরে তিনি থাকতেন বিদ্যাসাগর কলোনিতে। এলাকায় ‘পারুলপিসি’ বলে পরিচিত ওই স্বাধীনতা সংগ্রামী বাড়ির জমির এক পাশে পুঁতেছিলেন তেঁতুলগাছটি। গত বছর ওই জমি প্রোমোটারের হাতে যাওয়ায় গাছটির কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন অনেকে।

সেই আশঙ্কা থেকেই তেঁতুলগাছের প্রতিবেশী, স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র পরিচালক দেবলীনা গাছটি বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন। তেঁতুল-কথা নিয়ে তাঁর তথ্যচিত্র ‘জিলিপিবালার বন্ধুরা’ গত বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি গাছটি বাঁচাতে গণস্বাক্ষরও শুরু হয়। তাতে ইতিমধ্যেই প্রায় চার হাজার জন সই করেছেন। এ দিন দেবলীনা বলেন, ‘‘আজ সকালে বন দফতরের কর্মীরা এসেছিলেন। তাঁরা ওই প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি গাছটি না কাটার প্রতিশ্রুতিই শুধু দেননি, সেই সঙ্গে পারুলপিসির নামে একটি বেদি বানানোর কথাও বলেছেন। যে শহরে নির্মাণকাজের জন্য নির্বিচারে গাছ কাটা হয়, সেখানে ওঁর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট প্রশংসনীয়।’’

ওই প্রোমোটার দেবাশিস সরকার বলছেন, ‘‘আমিও গাছপ্রেমী। তাই ঐতিহ্যবাহী ওই গাছটি বাঁচিয়েই পাঁচতলা বহুতল তুলব। তেঁতুলগাছের জন্য জমির আড়াই মিটার অংশ ছেড়ে দিয়েছি। গাছটি বাঁচিয়ে নির্মাণকাজ করার শর্তেই পুর অনুমোদন পেয়েছি।’’ যদিও দেবলীনার বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে,নাম না করে দেবাশিসের অভিযোগ, ‘‘তেঁতুলগাছ নিয়ে তো উনিই ইউটিউবে ভিডিয়ো বানিয়ে রোজগার করছেন। ওঁর নিজের বাড়িতে একটা তুলসিগাছও নেই।’’

প্রোমোটারের প্রতিশ্রুতি দানে আপাতত তেঁতুল-যুদ্ধ শেষ হল বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। বর্ণালী দাস, মধুছন্দা ভট্টাচার্য, তনুশ্রী চক্রবর্তী, মৌসুমী ভৌমিক-সহ একাধিক শিল্পী এই লড়াইয়ে পাশে ছিলেন দেবলীনার। তবে এর মধ্যেওকিঞ্চিৎ চিন্তিত দেবলীনা। প্রোমোটারের অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলছেন, ‘‘ভাল কাজ করতে গেলে একটু তো কটু কথা শুনতে হবে। তবে আমার ও মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে এ বার চিন্তা হচ্ছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Baghajatin Freedom Fighter Promoter

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy