E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ডেঙ্গি ঠেকাতে মণ্ডপের বাঁশের ফাঁপা অংশ ভরাটের নির্দেশ হাওড়ায়

হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি মরসুমে এই জেলায় ডেঙ্গির প্রভাব গত চার বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২২ সালে এই সময়ে ৬৪৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, ২০২৩ সালে সেই সংখ্যাটা সামান্য কমে হয়েছিল ৫৮০৬ জন, ২০২৪ সালে সারা বছর বিশেষ অভিযান চালানোয় সংক্রমিতের সংখ্যা কমে হয়ে গিয়েছিল ১১৬৪।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৩

— প্রতীকী চিত্র।

পুজোর আগে বা পরে বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ডেঙ্গির মরসুমও এখন তুঙ্গে। তাই ডেঙ্গি রুখতে এ বার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। পুজো মণ্ডপের বাঁশের উপরের খোলা, বাটির মতো অংশে যাতে জল জমতে না পারে, তার জন্য সেই অংশ মাটি ভরাট করে লেপে দেওয়ার জন্য প্রতিটি পুজোর উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তারা এই নির্দেশ পালন করছেন কিনা, তা দেখার জন্য ইতিমধ্যেই ব্লক স্তরের স্বাস্থ্যকর্মী ও পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সচেতনতার প্রচার করতে বলা হয়েছে হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে।

হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি মরসুমে এই জেলায় ডেঙ্গির প্রভাব গত চার বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২২ সালে এই সময়ে ৬৪৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, ২০২৩ সালে সেই সংখ্যাটা সামান্য কমে হয়েছিল ৫৮০৬ জন, ২০২৪ সালে সারা বছর বিশেষ অভিযান চালানোয় সংক্রমিতের সংখ্যা কমে হয়ে গিয়েছিল ১১৬৪। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১০৩৩ জন। এ বছর এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১। আক্রান্তের সংখ্যা হাওড়া পুরসভা এলাকায় বেশি। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে গত ৩৯ সপ্তাহে ১৯৬ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানে পুরসভা এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪২।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্তের দাবি, জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও হাওড়া পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভাবে টানা ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। বিশেষত, পুরসভার জঞ্জাল অপসারণ দফতর ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকাগুলিতে সাফাইয়ের কাজ টানা চালিয়ে গিয়েছে। ডেঙ্গির জীবাণুবাহী মশার লার্ভা মারতে নিয়মিত লার্ভিসাইড তেল এবং গাপ্পি মাছ ছাড়ায় হাওড়া জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ অনেকটাই কমেছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘তবুও আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছি না। বর্ষা বিদায় আর শীতের আগে যাতে ডেঙ্গি ফের পুরনো রূপে ফিরে না আসতে পারে, সে কারণে পুজোর সময়ে মণ্ডপের বাঁশের ফাঁপা অংশে মাটি লেপে দিতে বলেছি সংগঠকদের। কারণ, ওই জায়গায় পাঁচ মিলিলিটার জলেও ডেঙ্গির মশা ডিম পাড়তে পারে। একই সঙ্গে, পুজো শেষ হওয়ার পরে বাঁশ পোতার জন্য তৈরি করা গর্তও বুজিয়ে দিতে বলা হয়েছে।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পুজোয় পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতর ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতার প্রচার অব্যাহত রাখবে। খোলা পাত্রে জল রাখতে হলে কী ভাবে নেট দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে, তা-ও দেখানো হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Dengue Durga Puja Durga Puja Pandals Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy