E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অগ্নি-সুরক্ষা দেখতে অভিযান হাওড়ার একাধিক হোটেলে

তারাপীঠ ও কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর পরে রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি হোটেলের অগ্নি-নির্বাপণ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৫৩

— প্রতীকী চিত্র।

তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার হাওড়া স্টেশন এবং সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড চত্বরের একাধিক হোটেলে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সংযোগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভিযান চা‌লাল হাওড়া পুরসভা, দমকল এবং পুলিশ। ঘিঞ্জি ওই এলাকার অধিকাংশ হোটেলেই অগ্নি-নির্বাপণ ও বৈদ্যুতিক সংযোগের হাল খুব খারাপ বলে মনে করছে দমকল। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, প্রতিটি হোটেলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুরসভা, পুলিশ ও দমকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যদি দেখা যায়, কোনও হোটেল বিনা অনুমতিতে ব্যবসা করছে অথবা ঠিকঠাক অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, তা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

তারাপীঠ ও কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর পরে রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি হোটেলের অগ্নি-নির্বাপণ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে। সেই মতো এ দিন হাওড়া পুরসভা, পুলিশ ও দমকলের কর্তারা গোলাবাড়ি থানা এলাকায় হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন হোটেলগুলিতে হানা দেন।

হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন হোটেলগুলি নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ড চত্বরের ডবসন রোড, কিংস রোড, আই সি বসু রোড এবং মুখরাম কানোরিয়া রোডে এমন হোটেল ও লজের সংখ্যা দুশোরও বেশি। ওই সব ঘিঞ্জি গলির মধ্যে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক পুরনো আবাসন। ভগ্নপ্রায় সেই বাড়িগুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে সিমেন্টের রড। বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছে বিদ্যুতের খোলা তার। এমনই বিভিন্ন বাড়ির প্রতিটি তলে চলছে অজস্র হোটেল ও লজ। যে কোনও দিন ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।

এ দিন ওই চত্বরের হোটেল এবং লজগুলির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে হাওড়া দমকল কেন্দ্রের আধিকারিক জয়েস কাঞ্জিলাল বলেন, ‘‘এখানকার বেশির ভাগ হোটেল ও লজেই অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার হাল খুব খারাপ। বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা আরও খারাপ। কোনও নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। যা পরিস্থিতি, আগুন লাগলে ভয়াবহ বিপদ ঘটবে। আবাসিকদের পালানোর কোনও বিকল্প পথই নেই কোথাও।’’

পুর প্রতিমন্ত্রী জানান, হোটেল ও লজগুলির পরিস্থিতি নিয়ে এ দিনই পুর কমিশনার এবং পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যে সব হোটেল ও লজ নিজেদের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা উন্নত করবে না বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Howrah Fire Incident

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy