সামনেই হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। বহু বছর ধরে ভোট না হওয়ায় বর্তমানে হাওড়ায় কোনও পুর বোর্ড নেই। যার জেরে পুর পরিষেবা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ। পুর পরিষেবার এ হেন বেহাল দশা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভও দিন দিন বেড়ে চলেছে হাওড়া শহরে। এই পরিস্থিতিতে এ বার বকেয়া সম্পত্তিকরের সুদ ও জরিমানা ১০০ শতাংশ মকুব করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল হাওড়া পুরসভা। ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল ইনসেন্টিভ স্কিম ২০২৬’ নামে এই প্রকল্প চালু হওয়ায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা পুরসভার কোষাগারে জমা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও পুরসভার এই ‘জনমোহিনী’ পদক্ষেপ ভোটের মুখে জনরোষ কমানোর লক্ষ্যেই ঘোষণা করা হল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
পুরসভার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের বকেয়া সম্পত্তিকরের সুদ ও জরিমানা মকুব করা হবে। হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তিকরদাতার মোট সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষ। কিন্তু বছরের পর বছর বহু মানুষ সম্পত্তিকর জমা দেননি। যার ফলে বর্তমানে বকেয়া সম্পত্তিকরের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা। এ দিন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘এর আগেও একাধিক বার ওয়েভার স্কিম চালু করা হয়েছে। কিন্তু বকেয়া কর আদায়ের অঙ্ক সন্তোষজনক হয়নি। এই প্রকল্প চালু হওয়ায় বহু মানুষের কর মেটাতে সুবিধা হবে। সেই সঙ্গে পুরসভার রাজস্ব আদায় বাড়বে।’’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে বকেয়া সম্পত্তিকরের উপরে প্রযোজ্য সুদ ও জরিমানার ১০০ শতাংশই মকুব করা হয়েছে। আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রিবেট-ও প্রদান করা হবে। এই প্রকল্প চালু থাকবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। করদাতারা বাড়িতে বসে অনলাইনে বা সরাসরি পুরসভায় গিয়ে বকেয়া কর জমা দিতে পারবেন। এ জন্য পুরসভায় ‘মে আই হেল্প ইউ ডেস্ক’ও চালু হয়েছে।