এনআরএস হাসপাতালে রহস্যজনক ভাবে মৃত নার্সের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। সূত্রের খবর, দেহের পাশেই পড়ে ছিল তাঁর মোবাইল। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নার্সের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দিহান তাঁর স্বামী রাহুল দাসও। এ অবস্থায় এনআরএসে স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত করাতে চাইছেন না তিনি।
নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মৃতের স্বামী। তাঁর দাবি, এনআরএসে যেন স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত না করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এনআরএসে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। লালবাজার থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি দলও হাসপাতালে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল অগ্রবাল এবং ডিসি (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পাল।
এনআরএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মৃতের স্বামী যেখানে চাইবেন, সেখানেই ময়নাতদন্ত হবে। হাসপাতাল থেকে এন্টালি থানায় যেতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত। তিনি সেখানে যাওয়ার পরেই ময়নাতদন্ত কোথায় হবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে বলে খবর।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জানান, অকুস্থল সিল করে দেওয়া হয়েছে। হোমিসাইড শাখা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “কোথায় ময়নাতদন্ত হবে তা এখনও স্থির হয়নি। পরিবার যেখানে চাইবে, সেইমতো আমরা পদক্ষেপ করব। মোট তিনটি অকুস্থল রয়েছে। তিনটিই সিল করা হয়েছে। অকুস্থল থেকে একটি স্ট্রেচার আপাতত পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।”
বৃহস্পতিবার দুুপুরে এনআরএস হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।
বুধবার রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা রুপালির। তাঁর রাতের ডিউটি ছিল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউয়ে। রাত ৮টায় তাঁর ডিউটি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে শৌচালয়ে যান রুপালি। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও রুপালি শৌচালয় থেকে না বেরোনোয়, ১০টা ২৭ মিনিটে তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করেন সহকর্মীরা। সাড়াশব্দ না পেয়ে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন সহকর্মীরা। সেখানে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় রুপালিকে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বেডে নিয়ে এসে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন চিকিৎসকেরা। তবে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছিল ওই নার্সের।
নার্সের রহস্যমৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এনআরএসে লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। —নিজস্ব চিত্র।
আরও পড়ুন:
কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এইচডিইউয়ের নার্সিং স্টেশনে কাজে যোগ দেওয়ার পর ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে চলে যান ওই নার্স। এই ওষুধ রোগীদের ঘুম পাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই ওষুধ নার্সের কনুইয়ের সন্ধিস্থলের শিরায় ইনজেক্ট করা হয়েছে বলে অনুমান করছেন চিকিৎসকেরা।
তবে কেন তিনি তিন ভায়াল ফেন্টানিল নিয়ে শৌচালয়ে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় এনআরএসে স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত করাতে চাইছেন না মৃত নার্সের স্বামী।