রাজ্যে পালাবদলের পরেই হাওড়া শহরের বেআইনি বহুতলের তালিকা তৈরি করে সেগুলি ভাঙার কাজ শুরু করেছিল হাওড়া পুরসভা। সেগুলির মধ্যে ছ’টি ওয়ার্ডের ছ’টি বহুতলের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি বিচ্যুতি চিহ্নিত করেছিলেন পুরসভার বিল্ডিং দফতরের ইঞ্জিনিয়ারেরা। যে বহুতলটি ভাঙতে হাওড়ায় প্রথম বুলডোজ়ার নামে, সেটি ছিল পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার শরৎ চ্যাটার্জি রোডের গা ঘেঁষে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিন পরেই, গত ১৮ মে ওই বহুতলের বেআইনি অংশ ভেঙে দিয়েছিল পুরসভা। কিন্তু অভিযোগ, সম্প্রতি বহুতলটি সবুজ কাপড়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়ে ফের নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা পুরসভায় অভিযোগ জানিয়েছেন।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশ পাওয়ার পরেই হাওড়া পুরসভা শহরের ৬০০টি বহুতলকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে চিহ্নিত করে। যার মধ্যে ছ’টি ওয়ার্ডের এমন ছ’টি বহুতল চিহ্নিত করা হয়, যেগুলির প্রায় ৮০ শতাংশই বেআইনি। এই ওয়ার্ডগুলি হল— ১৫, ১৯, ২৬, ২৭, ৪৪ এবং ৪৭। পুরসভা জানিয়েছে, চ্যাটার্জিহাটে রাস্তার পাশেই যে পাঁচতলা বহুতল তৈরি হয়েছে, সেটির উপরের তিনটি তলা অবৈধ। পুরসভা অনুমোদন দিয়েছিল দোতলা বসতবাড়ি তৈরির। কিন্তু সমস্ত নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে তৈরি করা হয়েছে পাঁচতলা বাণিজ্যিক বহুতল।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি বাঁধাঘাটের কাছে, গঙ্গার ধারে জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি গৌতম চৌধুরীর দলীয় কার্যালয় বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করে বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে বুলডোজ়ার চলেছে মুম্বই রোড ও হাওড়া-আমতা রোডের সলপে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেখানকার সমস্ত বেআইনি নির্মাণ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করে বুলডোজ়ার দিয়ে হাওড়ার যে বেআইনি বাড়িটি ভাঙা হয়েছিল, সেটির পুনর্নির্মাণের অনুমতি কি পুরসভা দিয়েছে? এ বিষয়ে হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘ওই বাড়িতে ফের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় চ্যাটার্জিহাট থানা থেকে তিন বার নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুলিশকে উপেক্ষা করে সেখানে নির্মাণকাজ চলছে বলে শুনেছি। বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর করা হয়েছিল, পুলিশকে তা-ও জানানো হয়েছে।’’
এ বিষয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ অফিসার বলেন, ‘‘পুরসভার পক্ষ থেকে ওই বাড়িটির কাজ ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, লুকিয়ে-চুরিয়ে রাতের অন্ধকারে কাজ হচ্ছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। আমরা নজর রাখছি।’’ পুলিশকর্তা এ কথা বললেও সম্প্রতি ওই বহুতলে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে মার্বেল পাথর বসানোর কাজ চলছে পুরোদমে।