‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বুধবার নিউ টাউনের ইকো পার্কে বিধাননগর পুলিশের একটি কর্মসূচিতে বুলডোজ়ার চালিয়ে কয়েক লক্ষ নিষিদ্ধ সিরাপের শিশি ভেঙে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বুলডোজ়ার চালিয়ে সিরাপের শিশি ভাঙার কাজ করেন। ওই কর্মসূচিতে রাজারহাট-নিউ টাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, এডিজি (এসটিএফ) জাভেদ শামিম, বিধাননগরের নগরপাল রাঠৌর অমিতকুমার ভরত-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা এবং আমলারা ছিলেন।
কর্মসূচির পরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে নেশামুক্ত ভারত অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন, তারই অঙ্গ হিসেবে রাজ্যে এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, অতীতের বিভিন্ন ঘটনা এবং সাম্প্রতিক কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছে, অপরাধীরা নেশা করে এসেছিল। মহিলাদের উপরে অত্যাচার সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে নেশার সম্পর্ক যে নিবিড়, তা-ও বার বার তদন্তে উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এর বাইরেও সামগ্রিক ভাবে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে নেশার কারণে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয় ছিল না। এখন বিএসএফ, এসটিএফ, ভারত সরকারের নার্কোটিক্স কন্ট্রোল বুরো, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি একযোগে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এর আগে বালুরঘাটে দু’লক্ষ অবৈধ কাশির সিরাপের শিশি ভাঙার অভিযান করা হয়েছিল, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা। তার পরেই এ দিন এখানে তিন লক্ষ ১০ হাজার শিশি ভাঙা হল, যার বাজারমূল্য ৩১ কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে এসটিএফ বড় সাফল্য পেয়েছে। অসম থেকে এক মাদক মাফিয়াকে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এসটিএফের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতে কিছু বাধা তৈরি হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সে বিষয়ে অনুমতি মিলেছে। তিনি জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থা লিখিত ভাবে জানিয়েছে, ওই সিরাপের উৎপাদন থেকে তারা বিরত থাকবে। তবে, তাতেই নিশ্চিন্ত হলে হবে না। কারণ, অন্য দেশ থেকেও নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ঢুকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, অবৈধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা এবং ভাঙার পাশাপাশি সেগুলির উৎসও ধ্বংস করা হবে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িতেরা শাস্তি পাবেন। জোর দেওয়া হচ্ছে সচেতনতার ক্ষেত্রেও।