রাজারহাটে ভাড়াবাড়িতে বিস্ফোরণ কাণ্ডে কলকাতা থেকে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মোহাম্মদ হোসেন। বাড়ি মধ্যমগ্রামের রাজবাটি এলাকায়।সোমবার তাঁকে নারায়ণপুর থানার পুলিশ পাকড়াও করেছে।
শুক্রবার রাতে রাজারহাটে সুপারিবাগানের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দু’টি ঘর। জখম হন বাড়ির এক বাসিন্দা। ঘটনার তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি থেকে শামিম নামে এক ফল দোকানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি দিন কয়েক আগে রাজারহাটের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে বিস্ফোরণের সময়, আগে বা পরে সেই ভাড়াবাড়িতে ছিলেন না। শামিম এখন পুলিশের হেফাজতে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে না অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। নানা মামলা থাকায় কামারহাটি এলাকায় তিনি থাকতেন না। পরিবারও তাঁকে এড়িয়ে চলত।
অন্য দিকে, যে দালালের মধ্যস্থতায় সুপারিবাগানের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন শামিম, সেই মহম্মদ শাহেনশাহকেও গত শনিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বার তৃতীয় অভিযুক্তকে পাকড়াও করল তারা। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, শামিমকে জেরা করে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে হোসেন একজন। বিস্ফোরক দেওয়া-নেওয়ার কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে জানা গিয়েছে, শামিমের ভাড়াবাড়িতে বিস্ফোরক রাখার দায়িত্বে ছিলেন ওই হোসেনই। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নিউটাউন জ়োনের ডিসি জ্যোতির্ময় রায় বলেন, ‘‘বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তিন দিনের মধ্যে তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতদের কাছ থেকে বিস্ফোরণ সম্পর্কিত আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছি আমরা।’’
আরও পড়ুন:
পুলিশের অনুমান, নিছক বসবাসের জন্য নয়, রাজারহাটে ওই বাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল বিস্ফোরক লুকোনো বা মজুত রাখার জন্য। আবার ওই রকম ঘিঞ্জি একটি জায়গায় একটি বাড়িতে বোমা রাখার মতো সাহস দেখালেন কী ভাবে, সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে পুলিশকে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। ঘটনার দিনই এনআইএ-র একটি দল গিয়েছিল।