আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিবিআই। মামলার তদন্তকারী অফিসারকেও বদলে দেওয়া হয়েছে। সীমা পাহুজার জায়গায় নতুন তদন্তকারী অফিসার হয়েছেন সন্দীপনী গর্গ। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মামুদের এজলাসে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিয়ে সিবিআইয়ের আইনজীবী পার্থসারথি দত্ত বলেন, ‘‘কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে নতুন তিন সদস্যের সিট তৈরি করা হয়েছে। আগের তদন্তকারী অফিসার কেস ডায়েরির ২০টি খণ্ড হস্তান্তর করেছেন। সেই নথি খতিয়ে দেখার জন্য সময় প্রয়োজন।’’ এ দিন তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তিন পাতার দ্বাদশ রিপোর্ট আদালতে জমা দেয় সিবিআই। আদালতে হাজির ছিলেন নবনিযুক্ত তদন্তকারী অফিসার সন্দীপনী।
নির্যাতিতার বাবা-মায়ের আইনজীবী অমর্ত্য দে, রাজদীপ হালদারেরা পাল্টা বলেন, ‘‘আগের তদন্তকারীরা ঠিক মতো তদন্ত করতে পারেননি বলেই হাই কোর্ট এই সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।’’ তাঁরা জানান, পুরো ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য আগের তদন্তকারী দলকে বলা হয়েছিল। রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারের তিন কর্মীর বিরুদ্ধে নির্যাতিতার ভিসেরার নমুনা বিকৃত করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল। আগে এই সব ব্যাপারে সিবিআই কী তদন্ত করেছে, সেটা নতুন সিট ভাল করে তদন্ত করে দেখুক।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা আরও বলেন, ‘‘আগে সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের কাছে নির্যাতিতার মায়ের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার আর্জি জানানো হলেও তাঁরা গুরুত্ব দেননি। এ বার যেন তা করা হয়।’’ ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এ দিন আদালতে ছিলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক এবং তাঁর স্বামী। শুনানি শেষে বেরিয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘আমাদের নতুন সরকার এসেছে। কঠোর ভাবে সব কিছু দেখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই বিধানসভায় একসঙ্গে চার আইপিএস অফিসারকে নিলম্বিত করা হয়েছে। তাই আমার বিশ্বাস, নতুন সরকার আমাদের বিচার দেবে।’’
সিবিআইয়ের কর্তাদের কথায়, প্রাথমিক ভাবে কেস ডায়েরি পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী পৃথক ভাবে কেস ডায়েরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে খাবার খাওয়ার পর থেকে নির্যাতিতার শেষকৃত্য পর্যন্ত ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখা হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে আর জি কর হাসপাতালে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল এবং যে শ্মশানে ওই ছাত্রীর শেষকৃত্য হয়েছিল, সেখানে গিয়ে তদন্তকারী অফিসারেরা ফের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ঘটনার তদন্তে জড়িত কলকাতা পুলিশের একাধিক কর্তা ও অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তাঁদের বয়ানও। নিম্ন আদালতের পাশাপাশি কলকাতা হাই কোর্টে সাম্প্রতিক তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। মামলার নতুন তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে ফের সব কিছু খতিয়ে দেখার কাজ হচ্ছে।