E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

২০২৬ কি আনবে আশার বাণী, প্রশ্ন চাকরিহারা প্রার্থীদের

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন। সেই মঞ্চ থেকেই তাঁদের জীবনে এসেছিল ২০২৫ সালের ভোর।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬

—প্রতীকী চিত্র।

ভারাক্রান্ত মনে আবারও একটা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া। পুরো ২০২৫ সাল তাঁদের কেটেছে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে। ২০২৬-এ সেই অনিশ্চয়তা কাটবে কি,প্রশ্ন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশ, কোনও পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের ক্ষেত্রেআরও বেশি করে ঘনাচ্ছে অনিশ্চয়তা। এমনকি, যাঁরা এসএসসি-র লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছেন,পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তাঁরাও।

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন। সেই মঞ্চ থেকেই তাঁদের জীবনে এসেছিল ২০২৫ সালের ভোর। সে দিনের স্মৃতিচারণ করে সঙ্গীতাসাহা নামে এক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘২০২৫ সাল শুরু করেছিলাম পথে বসে। ২০২৬-ও কার্যত সে ভাবেই শুরু করতে হচ্ছে। সদ্য চলেযাওয়া বছরে আন্দোলন করলাম। একের পর এক মামলা হল। তারই মধ্যে এসএসসি পরীক্ষানিল, তার ফল বেরোল। আমাদের চাকরির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর থেকে বেড়ে ৩১ অগস্ট হল। কিন্তু এত কিছুর পরেও সাময়িক স্বস্তি ছাড়া আর কিছু পেলাম কি?’’

সঙ্গীতা জানান, এই অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন তাঁদেরই সহযোদ্ধা,চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেন। সঙ্গীতা বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে ওয়াই চ্যানেলে, বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনে ছিলেনসুবল। ওঁকে হারানোর যন্ত্রণা ভোলার নয়। যাঁরা নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশ, কোনওপরীক্ষাতেই ‘কাট অফ’ নম্বর পেলেন না, ৩১ অগস্টের পরে তাঁরা কোথায় যাবেন?’’

নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশ, কোনও পরীক্ষাতেই কাট অফ নম্বর পাননি চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক অমিতরঞ্জন ভুঁইয়া। তিনিএই শিক্ষক-আন্দোলনের অন্যতম মুখও ছিলেন। অমিত বলেন, ‘‘গত বছর আমাদের জীবনে নতুন ভোর আসেনি। এ বছরেওএল না। আজ পর্যন্ত জানতে পারলাম না, কেন আমাদের চাকরি গেল। আমাদের তো কোনও দোষছিল না। এর জন্য দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি।’’

২০২৫ সালে প্রায় ১৪ হাজার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক এসএসসি-র পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যেনবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশ, কোথাওই ইন্টারভিউয়ের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি, এমন শিক্ষক রয়েছেন ১১২৬ জন। অমিত বলেন, ‘‘প্রতিযোগিতামূলকপরীক্ষায় প্রতি বার উত্তীর্ণ হওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তা কি থাকে? ২০১৬ সালের এসএসসি-তে ৩২ র‌্যাঙ্ক করা, একাদশ-দ্বাদশের এক সংস্কৃতের শিক্ষক এ বছরেএসএসসি-র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। আমি নিজে ২০১৬ সালে নবম-দশমে ভৌতবিজ্ঞানে ভাল ফল করেছিলাম। এ বছরেনবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ, দু’ক্ষেত্রেই ২ থেকে ৩ নম্বরের জন্য কাট অফ নম্বর হাতছাড়াহয়েছে। ৩১ অগস্টের পরে আমি কোথায় যাব?’’ তিনি আরও জানান, কয়েক দিন পরেই তাঁর বয়স হবে ৪০ বছর। সেই বয়সেকোনও সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসতে পারবেন না তিনি। অমিত বলছেন, এমনঅনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন বছর উদ্‌যাপন তাঁদের কাছে আকাশকুসুম কল্পনা।

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের প্রশ্ন, অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। তা হলে যোগ্যদের আবার পরীক্ষা দিতেহচ্ছে কেন? তাঁদের আশঙ্কা, এ বছরে বিধানসভা ভোটে যারাই সরকার গড়ুক, তাঁদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে না তো?

চাকরিহারা আর এক শিক্ষিকা রূপা কর্মকার বলেন, ‘‘আমরা যারা লিখিত পরীক্ষায়পাশ করে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাব, তারা সবাই যে তাতে উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকা পর্যন্ত যেতে পারব, তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়?আমরা স্কুলে শিক্ষকতায় ঢুকেছিলাম এটা জেনে যে, ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি নিশ্চিত। এখন দেখছি, ছ’মাস করে চাকরির মেয়াদ বাড়ছে।এ ভাবে কি নতুন বছর উপভোগ করা যায়?’’

রূপা জানান, যোগ্য চাকরিহারাদের প্রতি অবিচারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। নতুন বছরে সেই অবিচার কেটে যোগ্যরাসবাই স্কুলে ফিরুন, সেই প্রার্থনাই তাঁরা করছেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Teachers Recruitment SSC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy