E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শহর ছেয়েছে বিধি-ভঙ্গের ডিজিটাল বোর্ডে, খোলাবে পুরসভা

দুর্গাপুজোর আগে শহর জুড়ে ছেয়ে যাওয়া এমন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বোর্ড সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা। অভিযোগ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরসভার কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি এমন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের এলইডি স্ক্রিন লাগানোর জন্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২০
দেশপ্রিয় পার্ক মোড়ে রাস্তার ধারে বসানো বিশাল এলইডি স্ক্রিনে ঢাকা পড়েছে ‘নো লেফট টার্ন’ লেখা বোর্ডের একাংশ (চিহ্নিত)।

দেশপ্রিয় পার্ক মোড়ে রাস্তার ধারে বসানো বিশাল এলইডি স্ক্রিনে ঢাকা পড়েছে ‘নো লেফট টার্ন’ লেখা বোর্ডের একাংশ (চিহ্নিত)। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

কোথাও ফুটপাত থেকে লোহার ভারী কাঠামো নেমে এসেছে রাস্তায়। যার জেরে সরু হয়ে গিয়েছে রাস্তা। নিজেদের মতো করে বুঝে গাড়ি নিয়ে বেরোতে হচ্ছে চালকদের। কোথাও আবার ভার ধরে রাখার জন্য পেতে দেওয়া হয়েছে স্রেফ কয়েকটি লোহার ইট! তার উপরেই চাপানো হয়েছে বিশাল মাপের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের এলইডি স্ক্রিন! দেশপ্রিয় পার্কের মোড়ে আবার এমন ভাবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বোর্ড লাগানো হয়েছে যে, তাতে ঢাকা পড়ে গিয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশের ‘সাইনেজ’। সেখানে ‘নো লেফট টার্ন’-এর ‘নো’ কথাটিই ঢাকা পড়ে গিয়েছে এলইডি স্ক্রিনে! পথ-বিভাজিকায় এমন বোর্ড না লাগানো বা গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঢেকে না ফেলার মতো কোনও নিয়মই সেখানে মানা হচ্ছে না!

দুর্গাপুজোর আগে শহর জুড়ে ছেয়ে যাওয়া এমন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বোর্ড সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা। অভিযোগ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরসভার কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি এমন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের এলইডি স্ক্রিন লাগানোর জন্য। নানা মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে এ বার পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনুমতি ছাড়া এমন স্ক্রিন যেখানে লাগানো হয়েছে, সেখানে অভিযান চালিয়ে বোর্ড খুলিয়ে দেবেন পুর আধিকারিকেরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এই সংক্রান্ত অভিযান শুরু হয়। এক পুর আধিকারিকের কথায়, ‘‘বিজ্ঞাপনে কর ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য পুরসভাকে কর দিতে বলা হয়েছে এ বছর। সেই সঙ্গেই সব রকম বিজ্ঞাপনের জন্য পুরসভার অনুমতিও নিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং, ব্যানার বা ডিজিটাল বোর্ডে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নাম উল্লেখ করতেও বলা হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ জায়গাতেই পুরসভার অনুমতি না নিয়ে বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা ডিজিটাল বোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে। পুজোর সময়ে রাস্তায় অসংখ্য মানুষ বেরোন। এমন বোর্ড ভেঙে পড়ে বা অন্য কোনও ভাবে বিপত্তি ঘটলে তার দায় কে নেবে?’’

এই পরিস্থিতিতেই এ দিন পুরসভায় ২০টি বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক হয় পুরকর্তাদের। সূত্রের খবর, সেখানে এমন ডিজিটাল বোর্ড নিয়ে সতর্ক হতে বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কোনও রকম অননুমোদিত ডিজিটাল বোর্ড রাস্তায় থাকলে তা খুলে দেওয়া হবে। এমন বোর্ড যাতে যথাযথ ভাবে নিরাপদ কাঠামোর উপরে বসানো হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৃষ্টি হচ্ছে, তাই এমন বোর্ডে বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনও ভাবেই স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল বা কোনও ধর্মীয় স্থান আড়াল করে এমন বোর্ড বসানো যাবে না। যাত্রী-প্রতীক্ষালয় আড়াল করে এমন ডিজিটাল বোর্ড বসানো হলেও তৎক্ষণাৎ তা খুলে দেওয়া হবে। এমন বিজ্ঞাপনী ডিজিটাল বোর্ডের উচ্চতা মাটি থেকে ২০ ফুটের বেশি হওয়া চলবে না। পথ-বিভাজিকার রেলিংয়ের সঙ্গে এমন বোর্ড ঝোলানো যাবে না। বিশেষ ভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে, এমন ডিজিটাল বোর্ডের চড়া আলোয় যাতে গাড়িচালকের সমস্যা না হয়। এমন বোর্ডে কোনও ভাবেই লটারির বিজ্ঞাপন দেওয়া চলবে না। কী ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ‘অপ্রীতিকর’ বিজ্ঞাপন দেখানো হলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে বলেও পুরকর্তারা জানিয়েছেন।

যদিও এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থার কর্তাদের দাবি, ‘‘যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার সমস্ত কিছু দেখেই ডিজিটাল বোর্ড লাগানো চলছে। তবে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন অপ্রীতিকর হতে পারে, সে সম্পর্কে পুরসভা স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি।’’ এ সম্পর্কে পুরসভার কোনও কর্তাও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
KMC Municipal Corporation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy