Advertisement
E-Paper

কলকাতার কড়চা

উনিশ শতকের মধ্যরেখা ছুঁতে তখনও প্রায় এক দশক দেরি। বড়লাট অকল্যান্ডের বোন এমিলি ইডেন এঁকে ফেললেন কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানের ছবি, যে কি না হিন্দু কলেজেরও সফল ছাত্র (সঙ্গের ছবি)। ইডেন লিখেছেন, হিন্দু কলেজে যা ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হয় তা তাঁর নিজের দেশের অনেক স্কুলকে লজ্জা দিতে পারে।

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:৪১

দুশো বছরে পা দিচ্ছে হিন্দু স্কুল

উনিশ শতকের মধ্যরেখা ছুঁতে তখনও প্রায় এক দশক দেরি। বড়লাট অকল্যান্ডের বোন এমিলি ইডেন এঁকে ফেললেন কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানের ছবি, যে কি না হিন্দু কলেজেরও সফল ছাত্র (সঙ্গের ছবি)। ইডেন লিখেছেন, হিন্দু কলেজে যা ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হয় তা তাঁর নিজের দেশের অনেক স্কুলকে লজ্জা দিতে পারে। আর বাড়িটাও তো দেখার মতো, মাধববাবুর তালাওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে দেখলে তাক লেগে যায়। সাধে কি ফ্রেডরিক ফিবিগ বা ফ্রান্সিস ফ্রিথ-এর মতো আলোকচিত্রী সেই মধ্য-উনিশ শতকের আশপাশেই সযত্নে এর ছবি তুলেছিলেন? (সঙ্গে ফ্রিথ-এর তোলা ছবি) আজকের কলেজ স্কোয়্যারের উত্তর প্রান্তে, সাঁতার ক্লাবের আড়ালে সে বাড়ি এখনও আছে। আছে স্কুলও, তবে ১৮৫৫ থেকে ভাগাভাগি, কলেজ হয়ে গেল প্রেসিডেন্সি, পরে চলে গেল নতুন বাড়িতে।

হিন্দু স্কুল রইল তার মাটিতেই, এল পুরোপুরি সরকারি হাতে, তারও নতুন বাড়ি হল। ১৮১৭-র ২০ জানুয়ারি গরানহাটায় গোরাচাঁদ বসাকের বাড়িতে সূচনা হয় হিন্দু কলেজের, পশ্চিমী পদ্ধতির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চেয়েছিলেন শহরের রক্ষণশীল সম্ভ্রান্ত হিন্দুরাই। ডিরোজিয়ো, রিচার্ডসনের মতো শিক্ষক, মধুসূদন, রাজনারায়ণ, রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র, দীনবন্ধুর মতো ছাত্র এর ইতিহাসকে উজ্জ্বল করে রেখেছে। দ্বিশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির মাধ্যমে প্রাক্তন ছাত্ররা স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বছরভর নানা অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করেছেন। ১৭ জানুয়ারি সকাল ৯টায় দেশবন্ধু পার্ক থেকে স্কুল পর্যন্ত র‌্যালি ২০-২১ জানুয়ারি স্কুলে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন দিয়ে শুরু, পরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশিষ্টজনেদের নিয়ে আলোচনাসভা... সঙ্গে অবশ্যই স্কুলের জন্য নানা পরিকল্পনা।

ঐতিহ্য

সরস্বতী পুজোয় আমাদের উৎসাহে ঘাটতি নেই। কিন্তু সরস্বতীর জন্য শত শত মন্দিরে নিত্যপুজো? পাশাপাশি লক্ষ্মী, ইন্দ্র, ব্রহ্মা, গণেশ, গরুড় এঁরাও সগৌরবে হাজির। যে দেবতারা ভারতে প্রায় অস্তিত্বহীন, সেই বায়ু ও বরুণেরও পুজো হয় জাপানের মন্দিরে! যে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য থেকে আমরা অনেক সরে এসেছি, তা এখনও অটুট সেখানে। তাই সরস্বতী এখনও জাপানে জলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দু’দেশের মধ্যে এই বিস্ময়কর সম্পর্কই উঠে এসেছে ভারতীয় সংগ্রহশালায় আয়োজিত বিনয় বেহল-এর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ইন্ডিয়ান ডিটিজ ওয়রশিপড ইন জাপান’-এ। ভারতীয় শিল্পকলা নিয়ে বিনয় বেহল বহু তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন যা দেশবিদেশে প্রদর্শিত হয়। অজন্তা নিয়ে তাঁর কাজ প্রশংসা পেয়েছে। আজ আশুতোষ জন্মশতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহে সাড়ে চারটেয় উদ্বোধন, চলবে ২১ পর্যন্ত (১১-৪.৩০)। সঙ্গের ছবিতে ওসাকা-র সরস্বতী মন্দির।

সাহিত্য উৎসব

শীত একটু গাঢ় হতেই এ শহরে লিট্‌ল ম্যাগাজিন মেলা আর সাহিত্য উৎসব। এ বারও আজ থেকে ১৫ জানুয়ারি বাংলা আকাদেমি-রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ জমকালো হয়ে উঠবে মেলা আর উৎসবের রঙে। কবি-লেখকদের আড্ডা ও তাঁদের গল্প-কবিতা পাঠ, অজস্র সাময়িকপত্র আর সারস্বত প্রতিষ্ঠানের পুস্তক সম্ভার, স্মারক বক্তৃতা, নানান ধারার বাংলা গান— মনন, চিন্তন, কল্পনায় মেতে উঠবে বাঙালি। আকাদেমি সভাঘরে আজ উদ্বোধনে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সভামুখ্য শাঁওলী মিত্র। অর্পিত হবে আকাদেমির বিভিন্ন স্মারক পুরস্কার। বাংলার প্রচ্ছদশিল্প নিয়ে ‘বিজিতকুমার দত্ত স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন হিরণ মিত্র। আগামী দিনগুলিতেও সন্ধে ৬টায় বিভিন্ন স্মারক বক্তৃতা দেবেন দেবেশ রায়, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, রত্না রশীদ। মেলা রোজ ২-৮টা।

উদ্যোগ

প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক জায়গায় আজও পৌঁছয়নি বই। নিরক্ষরতার জন্য বইয়ের প্রতি আগ্রহও জন্মায়নি। ওঁদের কথা ভেবেই চেনা বইকে প্রযুক্তির সাহায্যে অডিয়ো ও ব্রেল-এর মাধ্যমে প্রকাশে উদ্যোগী হল মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স। সহায়তা করছে খড়গপুর আইআইটি-র ভাষা-প্রযুক্তি পরিষদ। থাকবে ই-বুকও। প্রকাশক সবিতেন্দ্রনাথ রায়ের কথায় ‘‘চারপাশে প্রচুর বইমেলা হলেও অনেক প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও বই পৌঁছয় না। বাড়ে স্কুলছুটের সংখ্যা।’’ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন আকারে এই বইয়ের বিতরণ শুরু হবে মেদিনীপুর জেলায়। তার আগে ১৮ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটায় জীবনানন্দ সভাঘরে আয়োজন করা হয়েছে এক আলোচনা সভা ‘বাংলা ভাষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ’।

অতীতের ছোঁয়া

বছর শেষ, আর বর্ষারম্ভের শহরজোড়া হাসি-আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যে ব্যতিক্রমী এক সুর ধ্বনিত হল ‘রেজোনেন্স অফ দ্য ক্রনিকল’ নামের দেড় ঘণ্টার এক তথ্যচিত্রে। কলকাতা ডায়োসেস (বর্তমানে চার্চ অব নর্থ ইন্ডিয়া) পূর্ণ করেছে দুশো বছর (১৮১৪-২০১৪), সেই উপলক্ষেই সুপূর্ণ সরকারের নির্দেশনায় তারা এটি তৈরি করেছে। কলকাতার প্রাচীন সব গির্জার স্থাপনকথা আর তার সঙ্গে জড়ানো শহরের ইতিকথা সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এতে। কোন চার্চে মধুসূদন ধর্মান্তরিত হন, কোন চার্চে কিছু দিন সার্ভিস করেছিলেন আলেকজান্ডার ডাফ, ইত্যাদির পাশাপাশি ‘হোলি ট্রিনিটি চার্চ’-এ শ্রীরামকৃষ্ণের পদার্পণ, গির্জা সংলগ্ন একাধিক উল্লেখযোগ্য স্কুল ও কলেজের বিবরণপূর্ণ তথ্যচিত্রটির গৌরব বৃদ্ধি করেছে ধর্মীয় সংগীতের আন্তরিক প্রয়োগ।

সাফল্য

হুইলচেয়ার থেকে উঠতে পারেন না। কথা বলতেও সমস্যা। সেরিব্রাল পলসি এবং শরীরের ৮০ শতাংশ ‘লোকোমোটিভ ডিসফাংশন’-এর জন্য অধিকাংশ অঙ্গের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই তাঁর। কিন্তু দেবাশিস লেখেন প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা। নিজের ভাবনা, বোধ, অনুভূতি উজাড় করে দেন খাতার পাতায়। লিখতে গিয়ে পেন কাঁপে, সেটা শক্ত করে ধরে থাকেন তাঁর মা স্বর্ণময়ী দাস। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি কবিতার বই আমার মনের কল্পনা ও আশা, কল্পনা, আমার ভাবনায় জন্মভূমি এবং আমার কল্পনায় স্বদেশ গড়া। বইগুলি রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি স্কুলের লাইব্রেরিতে জায়গা পেয়েছে। ছাব্বিশ বছরের দেবাশিস দেশের প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অসাধারণ সৃজনশীল মানুষ হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেলেন ৩ ডিসেম্বর, নয়াদিল্লিতে। বিজ্ঞানভবনে এই পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন অরুণ জেটলি।

মনোবিদ

মনোরোগী মানেই পাগল আর তাঁকে সুস্থ করতে বৈদ্যুতিক শক ছাড়া উপায় নেই, এই ধারণা অনেকের মধ্যে এখনও চালু। আর সেটা অনেক বেশি প্রবল ছিল সত্তরের দশকের কলকাতায়। এমন ভ্রান্তির অন্ধকার দূর করতেই ১৯৮০ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘সেন্টার ফর সাইকোলজিক্যাল টেস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ’, যার অধীনে সদানন্দ রোডে তৈরি হয় মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্র ‘মনোবীক্ষণ’। এ ব্যাধি সারাতে যে রোগীর কথা মন দিয়ে শোনা ও তাঁর সঙ্গে কথা বলা জরুরি, সেটা সব সময়ে মনে করতেন দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার পর ইনস্টিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ-এ শিক্ষকতা করেছেন। মনোবিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কাজে অবদানের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি পান পশ্চিম ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসনের জন্যও গড়ে তোলেন ‘নবারুণ’ হাসপাতাল। মনোবিদ দেবব্রতবাবু ৮৭ বছরে প্রয়াত হলেন গত ১১ ডিসেম্বর। ১৭ জানুয়ারি ৫টায়, বিড়লা অ্যাকাডেমি অব আর্ট অ্যান্ড কালচার-এ তাঁর স্মরণসভা।

ফেলুদাকে নিয়ে

হাফ সেঞ্চুরির পর ফেলুদা এখন কলকাতার সীমা ছাড়িয়ে। ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরির মতো প্রাচীন (১৮৮৪-তে প্রতিষ্ঠিত) গ্রন্থাগারও মেতে উঠেছে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সৃষ্টির (১৯৬৫-র ডিসেম্বর) পঞ্চাশ বছর উদ্‌যাপনে। আজ সন্ধে ৬টায় পাঠাগার-ভবনে ‘ফেলুদা ৫০ এবং সত্যজিৎ’ শীর্ষক আড্ডা জমাবেন (ফেলুদা) সব্যসাচী চক্রবর্তী, (তোপসে) সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, এবং ফেলুদা-ছবির পরিচালক সন্দীপ রায়। সঙ্গে ভীষ্ম গুহঠাকুরতা। অনুষ্ঠান পরিচালনায় দেবাশিস রায়চৌধুরী। অন্য দিকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ বালি-র অ্যাপেক্স ক্লাব প্রকাশ করল ফেলুদাকে নিয়ে ক্যালেন্ডার। প্রতিটি পাতায় সন্দেশ-এ প্রকাশিত ফেলুদা-কাহিনির সত্যজিৎ-অঙ্কিত ছবি। এ দিকে আজ সুচিত্রা ভট্টাচার্যের জন্মদিন। নন্দনে আজ আর কাল তাঁর কাহিনি নিয়ে তৈরি ছবির রেট্রো-র আয়োজন করেছে উইন্ডোজ, নন্দন-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। আছে তাঁকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

দ্বিতীয় একক

হীরু ডাকাত, শাদা ঘোড়া, আমাজনের জঙ্গল— এই সব বইয়ের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে ছোটদের পরিচয়। ভ্রমণপিপাসুরা তাঁকে চেনেন আন্টার্কটিকা কি আলাস্কার ভ্রমণ কাহিনির মাধ্যমে। তিনি অমরেন্দ্র চক্রবর্তী। কবি, গল্পকার, ভ্রমণ-লেখক, সম্পাদক অমরেন্দ্রবাবু গত তিন বছর ধরে ছবি আঁকছেন। ২০১৪-য় হয়েছে তাঁর প্রথম একক। সমকালীন হিংস্রতার আবহ নিয়ে এ বার তাঁর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী ‘ভায়োলেন্স’ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি সাড়ে পাঁচটায় আইসিসিআর-এর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্যালারিতে। উদ্বোধন করবেন শঙ্খ ঘোষ, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, নবনীতা দেবসেন এবং দেবেশ রায়। চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। সঙ্গে তারই একটি ছবি।

স্মরণ

স্বামীজিকে কেবল ভক্তিমার্গের চৌহদ্দিতে আবদ্ধ করে ফেলা অনুচিত, এমন বিশ্বাস থেকেই তাঁর অনুজ ভূপেন্দ্রনাথ লেখেন ‘স্বামী বিবেকানন্দকে কী ভাবে দেখি’। আবার ছাত্রবয়সে সংশয়ের মুহূর্তে ব্রাহ্মভাবনামুখী বিবেকানন্দ কী ভাবে ফিরে গেলেন বিশ্বাসের জগতে, লিখেছিলেন তাঁর সুহৃদ ব্রজেন্দ্রনাথ শীল: ‘ব্রাহ্ম মুহূর্তে নরেন্দ্রনাথ’ (অনূদিত)। স্বামীজির গাওয়া ‘মন চলো নিজ নিকেতনে’ নিয়ে সর্বানন্দ চৌধুরীর রচনা ‘নিজ নিকেতনে’। তরুণ গোস্বামীর ‘জাতীয়তাবাদী বিবেকানন্দ’। বিবেকানন্দ-অনুধ্যান গ্রন্থমালায় রচনাগুলি প্রকাশ করছে সূত্রধর, ১৭ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় শোভাবাজার রাজবাড়িতে। স্বামীজির মধ্যম-অনুজ মহেন্দ্রনাথের বই, যেমন লণ্ডনে স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামীজির জীবনের ঘটনাবলী নিয়মিত প্রকাশ করছে মহেন্দ্র পাবলিশিং কমিটি (৩৬/৭ সাহিত্য পরিষৎ স্ট্রিট), স্বামীজির সঙ্গে তাঁর দুই অনুজের জন্মদিন তারা আজও পালন করে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে প্রথম ডি লিট, বহুভাষাবিদ শিক্ষক রমেন্দ্রকুমার সেন-এর স্মরণে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয় গত বছর থেকে শুরু করেছে ‘রমেন্দ্রকুমার সেন স্মারক বক্তৃতা’। ১৬ জানুয়ারি দুপুর তিনটেয় ‘রোমা রোল্যাঁ ও শ্রীরামকৃষ্ণ’ বিষয়ে বলবেন চিন্ময় গুহ।

শিশু সাহিত্যিক

ছড়ায়-কবিতায়-গল্পে ঘেরা ছিল তাঁর জগৎ। সেখানে ছিল শৈশবের হাতছানি, কৈশোরের স্পন্দন। পূজাবার্ষিকী ‘আনন্দমেলা’র পাতায় লিখেছিলেন ‘এই দাদাভাই, এক পা আমার/ নেই, তবে এই একটা আছে।/ যাই না দূরে একলা আমি,/ ঘুরে বেড়াই ধারে কাছে। / কিন্তু আমার ইচ্ছে–ফুলের/ ফুটছে কুঁড়ি মনের গাছে।’ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন মানসিক শক্তি জুগিয়েছিল তাঁকে। সরল দে’র জন্ম ১৯৩৫-এ মামার বাড়ি জয়নগর-মজিলপুরে। প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১২ বছর বয়সে ‘রংমশাল’ পত্রিকায়। পরে ‘মৌচাক’, ‘শিশুসাথী’, ‘আনন্দমেলা’, ‘কিশোর ভারতী’, ‘শুকতারা’ সহ অসংখ্য পত্র পত্রিকায় তাঁর ছড়া, কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়। ‘শতদল’, ‘পর্ণপুট’, ‘ঝুমঝুমি’, ‘রোশনাই’ সম্পাদনা করলেও তাঁর সম্পাদিত ‘টগবগ’ বিশেষ ভাবে শিশুদের মন জয় করেছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ৫৪ টি সংখ্যায় ‘টগবগ’ শিশু সাহিত্যের জগতে বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছিল। পত্রিকাটি ছিল কিশোরদের সাহিত্য চর্চার অন্যতম সোপান। সরল দে’র প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ। উল্লেখযোগ্য ইষ্টিশানের মিষ্টি গান, আঁকন বাকন, ল্যাজ কাহিনি, বিড়াল হইতে সাবধান, ভোর আকাশের তারা, বাঘুকে নিয়ে গপ্প, ভয়তাড়ুয়া, সব গল্পই মিষ্টি, করুণাসাগর প্রভৃতি। শিশু সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অাকাদেমি থেকে ‘বাল সাহিত্য পুরস্কার’, ‘অভিজ্ঞান পুরস্কার’, ‘বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কার’। সম্প্রতি ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন এই শিশু সাহিত্যিক।

রঙ্গকর্মী ৪০

সুস্থির সচেতন প্রতিবাদী মানুষের পাশে অস্থির উন্মাদ হিংস্র মানুষের রূপটাই যন্ত্রণা দেয় উষা গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেই যন্ত্রণা থেকেই তাঁর নতুন সৃষ্টি ‘দর্দ-এ-নাক’। ‘ভৈকম মোহাম্মদ বশীর-এর রচনা থেকে সাধারণত নাটক হয় না, ওঁর ‘দি ওয়ার্ল্ড রিনাউন্ড নোজ’ পড়ে মনে হল যেন চারপাশের সময়টাকে দেখতে পাচ্ছি, এই যে ‘মব সাইকোলজি’, তার ভেতর তো ফাঁপা মানুষের চেহারাটাই উঠে আসে, চিন্তাহীন যুক্তিহীন পূর্বাপরবিবেচনাহীন অথচ আধুনিক মানুষ!’ উষা বলতে থাকেন, এই ব্যক্তিত্বহীন সমষ্টিকে ‘স্যাটায়ার’-এর ভিতর দিয়ে কী ভাবে বুনেছেন নতুন নাটকে। দীর্ঘকাল ধরে অসামান্য অভিনয়ের সঙ্গে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে তাঁর নির্দেশিত নাটকও মুগ্ধ করে রাখে আমাদের। রবীন্দ্রনাথ থেকে মহাশ্বেতা দেবী, সফদর হাসমি বা সাদাত হাসন মান্টো থেকে বশীর, কখনও বা ব্রেশ্‌ট থেকে দারিও ফো, ঘুরেফিরে সমাজজীবনের নানা সংকটকেই মঞ্চস্থ করে গিয়েছেন। ‘কখনও রিপিট করিনি, থিয়েটারের নিজস্ব ভাষাটাকে ক্রমাগত শক্তিশালী করেছি, যাতে আদ্যন্ত ভারতীয় হয়ে ওঠে আমাদের নাটক, ভাষার ভিন্নতা যেন বেড়া না হয়ে দাঁড়ায়।’ পাকিস্তানে গিয়েও নাটক করেছেন, নাট্যকর্মীর পাশাপাশি তিনি সমাজকর্মীও। সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি সহ সারা দেশের নানা সম্মান পেয়েছেন। ১৯৭৬-এ তাঁর নাট্যগোষ্ঠী রঙ্গকর্মী-র চলা শুরু, চল্লিশে পা নতুন বছরে। নতুন নাটকটির প্রথম অভিনয় ১৬ জানুয়ারি, ১৭ জানুয়ারি রবীন্দ্রনাথের ‘চণ্ডালিকা’ (সঙ্গে তাতে তাঁরই ছবি), দুটিই সন্ধে ৭টায়, অ্যাকাডেমিতে।

karcha kolkatar karcha

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy