তৃণমূল জমানায় কলকাতার বেআইনি পার্কিং সমস্যা মেটাতে যে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছিল। তার ‘ত্রুটিবিচ্যুতি’ থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার কলকাতা পুরসভা নতুন অ্যাপ তৈরি করে কলকাতার বেআইনি পার্কিং সমস্যা মেটাতে চায়।
শহরের অনেক রাস্তায় দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে গাড়ি। কোথাও আবার ফুটপাত দখল করে রাখা হয় বাইক কিংবা চারচাকার গাড়ি। ফলে পথচারীদের হাঁটার জায়গা মেলে না। শহর কলকাতায় বেআইনি পার্কিংয়ের এই ছবি নতুন নয়। এই সমস্যা মেটাতে ফের অ্যাপ-নির্ভর ব্যবস্থা চালুর পথে কলকাতা পুরসভা। আগের উদ্যোগের ‘ব্যর্থতা’ থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
পার্কিংকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘ দিনের। কোথায় গাড়ি রাখা যাবে, তার নির্দিষ্ট তালিকা থাকা সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। এই পরিস্থিতিতে পার্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে পুরসভা ও কলকাতা পুলিশ যৌথ ভাবে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বেআইনি পার্কিং বন্ধ করতে একটি নতুন অ্যাপ চালুর কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পরিকল্পনা ছিল, ওই ব্যবস্থার সঙ্গে একই সময়ে যুক্ত থাকবে পরিবহণ দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশ। কোনও গাড়ি বেআইনি ভাবে পার্ক করা হলে তার তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির কাছে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। গাড়ির নম্বরের ভিত্তিতে মালিকের মোবাইলে জরিমানার বার্তাও পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। সাত দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে তার অঙ্ক বাড়বে। এমনকি এক বছর পর্যন্ত জরিমানা বকেয়া থাকলে গাড়ির প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
নতুন উদ্যোগে আগের প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি এড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার নির্দেশ, নির্দিষ্ট এবং অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গাতেই গাড়ি বা বাইক রাখতে হবে। প্রতিটি চিহ্নিত পার্কিং এলাকায় ঘণ্টা হিসাবে কত ফি দিতে হবে, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা থাকবে। পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নির্দিষ্ট পোশাক এবং সচিত্র পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, ফুটপাথের উপর গাড়ি বা বাইক রাখা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নতুন অ্যাপের মাধ্যমে পার্কিংয়ের তথ্য, ফি এবং বেআইনি পার্কিং সংক্রান্ত নজরদারি আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বার প্রযুক্তিগত ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে পুরসভা ও পুলিশ।