কলকাতা পুরসভার সার্ভার বিকল থাকায় ১৮ দিন পরেও বন্ধ পুরসভার যাবতীয় অনলাইন কাজকর্ম। এর ফলে অনলাইনে সম্পত্তিকরের টাকা জমা দিতে গিয়ে খুবই সমস্যা হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পেতেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন পুরসভায় আসা নাগরিকদের অনেকে। কলকাতা পুরসভার তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের এক শীর্ষ কর্তা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘সার্ভার আংশিক চলছে। কিছু ক্ষেত্রে কাজ হলেও সম্পত্তিকরের টাকা সংগ্রহ, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে হয়রানি বাড়ছে।’’
কলকাতা পুরসভার অনলাইন পরিষেবা কবে থেকে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অধিকাংশ পুর আধিকারিকেরাই অন্ধকারে। এক পুর আধিকারিক জানালেন, সার্ভার বন্ধ থাকায় ই-ফাইলের কাজ করা সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, এ দিন বিকেলে সার্ভার চালু হলেও তাতে কাজ করতে পারছেন না পুর আধিকারিকেরা। সম্পত্তিকর বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘১৮ দিন পরে সার্ভার চালু হলেও এখনই কাজ শুরু করছি না। একটা দিন গেলে বুঝতে পারব।’’
এ দিকে, প্রতিদিন সাধারণ মানুষ পুরসভায় এসে বিকল সার্ভারের কারণে পরিষেবা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। নাকতলা থেকে আসা এক দম্পতির অভিযোগ, ‘‘জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের পুরনো নথি পেতে আগে একটি মোবাইল নম্বরে (চ্যাটবট নম্বর) পুর স্বাস্থ্য দফতরে মেসেজ পাঠাতে হয়। ওই নম্বর দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। আজ পুরসভায় এসে জানতে পারলাম, কবে থেকে পরিষেবা চালু হবে, তা পুর আধিকারিকেরাও জানেন না।’’
পুর তথ্যপ্রযুক্তি দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পরে দীর্ঘদিন ধরে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি সংগ্রহ বন্ধ ছিল। মাসখানেক আগে চ্যাটবটের মাধ্যমে ওই নথি দেওয়া চালু হলেও পরে ফের তা স্থগিত হয়ে যায়। পুর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের পুরনো বা নতুন নথি দেওয়া মাসখানেক আগে চালু হয়েছিল। তার পরে এখনও অনেকে চ্যাটবট নম্বরে নথিভুক্তকরতে আবেদন করছেন। ভিড়ের চাপে বুকিং পদ্ধতি স্থগিত আছে। সেই সঙ্গে গত দু’সপ্তাহ ধরে পুরসভার সার্ভার বিকল থাকায় ফের সমস্যা দেখা দিয়েছে।’’
পুরসভার সার্ভার বিকল থাকার কারণে পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি, সামনের মাসে বেতন সময় মতো মিলবে কিনা, সেই আশঙ্কাও দানা বাঁধছে পুর অন্দরে। চলতি মাসে বেতন না পাওয়ায় কলকাতা পুরসভার ১২ ও ১৬ নম্বর বরোর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা বরো অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, সার্ভার সমস্যার কারণেই ওঁদেরবেতন দেওয়া যায়নি। এ দিকে, আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে পুরসভায় ছুটি পড়ে যাবে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। যদিও পুর তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের এক শীর্ষ কর্তা আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘সার্ভার সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। পুরকর্মীদের বেতন পেতে কোনও সমস্যা হবে না।’’