জরুরি ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিশেষ পরিষেবা বা ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম (ইআরএসএস) চালু করেছে কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, ইআরএসএস পরিষেবায় ফোন পাওয়ার পরে তাতে সাড়া দিতে ১০ মিনিটের বেশি দেরি হলে বিভাগীয় উপ-নগরপাল তার তদন্ত করবেন। ইআরএসএসের দায়িত্বে থাকা উচ্চ পদস্থ কর্তাকে তিনি সেই রিপোর্ট তুলে দেবেন।
১০০ বা ১১২ ডায়ালে আসা ফোন পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী দেরিতে সাড়া দিলে তার কারণ উচ্চ পদস্থ কর্তাদের জানাতে বলা হয়েছে। লালবাজার সূত্রের খবর, এই পরিষেবা ঠিক মতো চালাতে মঙ্গলবার যে আর্দশ কার্যবিধি কলকাতা পুলিশের নগরপাল জারি করেছেন, তাতেই রয়েছে এই বিষয়টি। আপৎকালীন এই পরিষেবার জন্য পুলিশ যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, তাই ওই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে থানাগুলিকে মোটরবাইক দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এর জন্য নতুন গাড়িও দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, একই সঙ্গে কার্যবিধিতে উল্লেখ রয়েছে, জরুরি ফোন আসার ধরন, স্পর্শকাতর এলাকা, পৌঁছনোর সুবিধা-সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে ইআরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত গাড়ি বা মোটরবাইক মোতায়েনের স্থান ঠিক করতে বলা হয়েছে ওসিদের। সেই সঙ্গে ওই স্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপ-নগরপালদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে যে জায়গা নির্ধারণের আগে ওই নম্বরে আসা ফোনের সংখ্যা এবং সাড়া দেওয়ার সময় বিশ্লেষণ করতে হবে। এক পুলিশকর্তা জানান, ইআরএসএস-এর পরিষেবায় যুক্ত পুলিশকর্মীদের এমন জায়গায় ওই মোটরবাইক বা গাড়ি নিয়ে থাকতে বলা হচ্ছে, যাতে যে কোনও জায়গায় দ্রুত পৌঁছনো যাবে।
এ-ও বলা হয়েছে, ইআরএসএস-এ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীরা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে জরুরি ফোনে সাড়া না দেন কিংবা অনুমোদিত পথে গাড়ি না চালান, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি, নগরপালের ওই কার্যবিধিতে উল্লেখ রয়েছে যে ইআরএসএসের জন্য ব্যবহৃত গাড়ি বা মোটরবাইকের অপব্যবহার করা হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রের দাবি, কার্যবিধিতে লালবাজার কন্ট্রোল রুম এবং ডিভিশনাল অফিসারদের বলা হয়েছে, ফোন এলে কত ক্ষণে সাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নজরদারি চালাতে হবে। সাড়া দিতে বিলম্ব হলে সেই তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। যদি কোনও পুলিশকর্মীর দায়িত্ব পালনে কিংবা কার্যপদ্ধতিতে কোনও রকম খামতি পাওয়া যায়, তা সংশোধন করতেও বলা হয়েছে।
কন্ট্রোল রুমকে আরও বলা হয়েছে, নগরপাল-সহ উচ্চ পদস্থ কর্তাদের কাছে প্রতিদিন ওই বিষয়ে রিপোর্ট বা তথ্য পাঠাতে হবে। এমনকি, প্রতিটি ফোনের সময়, কন্ট্রোল রুমের নির্দেশ, পুলিশকর্মীদের ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হওয়ার সময় নথিবদ্ধ করতে হবে। পুলিশ কখন পৌঁছেছে, কী ব্যবস্থাই বা গ্রহণ করা হয়েছে— সে সবও নথিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে নগরপালের ওই আদর্শ কার্যবিধিতে।