দিল্লি পুলিশের ধাঁচে আট কেজি ভার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন কিনছে কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারির পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কিংবা কোনও জমায়েত বা বিক্ষোভের ফলে রাস্তা আটকে গেলে প্রয়োজনীয় জিনিস ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে দিতে ড্রোনগুলি ব্যবহার করা হবে। আপাতত দু’টি এমন ধরনের অত্যাধুনিক ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খরচ ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা।
লালবাজার সূত্রের খবর, নতুন এই ড্রোন দু’টি একটানা ১০ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এমনকি অধিক ভার নিয়ে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই ড্রোন দু’টির সঙ্গে কোনও কারণে আকাশে ওড়ার সময়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রকের কাছে নেমে আসতে সক্ষম। চিনা মাঞ্জার বিপজ্জনক সুতোয় যাতে কোনও ভাবে ড্রোনগুলির ক্ষতি না হয়, তার জন্যও সেগুলিতে বিশেষ প্রযুক্তি থাকছে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ড্রোন দু’টি কিনতে ইতিমধ্যেই দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বছর শেষের আগেই এই ড্রোন বাহিনীর হাতে এসে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই ড্রোন দু’টি দিয়ে কোনও জনসভা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও কোনও বিক্ষোভ, অবরোধে রাস্তা আটকে গেলে কর্তব্যরত পুলিশকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতেও ড্রোনগুলিকে ব্যবহার করা যাবে।
সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে। মূলত, ভিভিআইপি নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক জনসভাতেও এই ড্রোন ব্যবহার হয়ে থাকে। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘এই ধরনের ড্রোন দিয়ে একাধিক কাজ সম্ভব। দিনে-রাতে একই ভাবে কার্যকরী। ড্রোনগুলি চালানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের দরকার হয়। এই ড্রোন বাহিনীতে যোগ করতে দ্রুত সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।’’