২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারির মধ্যে থাকতেন। গতিবিধির উপর নজর রাখতে প্রেসিডেন্সি জেলে তাঁর কুঠুরিতে ছ’টি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। তার পরেও কী ভাবে ‘অবাধে’ কুঠুরির মধ্যে ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলেছিলেন আফতাব আনসারি? সেই বিষয়ের তদন্তভার এ বার যেতে চলেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
আফতাবের ঠিকানা প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের পহেলা বাইশ (১/২২) ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর সেল। তবে ওয়ার্ডে শুধু একা আফতাব নন, আরও ‘হাই প্রোফাইল’ মামলার অভিযুক্তেরাও রয়েছেন। ৫২ নম্বর সেলে রয়েছেন সুবোধ রায়। আর অনীশ ঠাকুর রয়েছেন ১৯ নম্বর সেলে। এই দু’জনই বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত। গত ৫ অগস্ট তাঁদের সেল থেকেও স্মার্টফোন উদ্ধার হয়েছিল। কী ভাবে বন্দিদের হাতে এই সব সরঞ্জাম পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই জেলে থাকা অপরাধীদের মোবাইল ব্যবহার এবং সংশোধনাগারের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের নেশার জিনিসের রমরমা কারবার নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলের এই অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেছিলেন। জেলে কী ভাবে বন্দিদের হাতে মোবাইল পৌঁছোচ্ছে, সেখান থেকে বন্দিরা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এ নিয়ে মে মাস থেকে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই জেলে বন্দিদের ‘জীবনযাত্রা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আফতাবের ঘটনা।
আরও পড়ুন:
মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলা এবং খাদিমকর্তা অপহরণে মূলচক্রী আফতাবকে প্রথম থেকেই ‘হাই সিকিউরিটি ইনমেট’ হিসাবে গণ্য করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয় তাঁকে। ক্যামেরা ছাড়াও আফতাবের সেলের পাহারার জন্য একজন আলাদা কারারক্ষী (ওয়ার্ডার) মোতায়েন করা হয়েছিল। গত ২৩ অগস্ট প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তাঁর কুঠুরি থেকে মিলেছে মোট তিনটি স্মার্টফোন (তার মধ্যে একটি আইফোন), তিনটি জিয়ো সিম কার্ড, দু’টি জিয়ো রাউটার, একটি ওয়াইফাই হটস্পট, দু’টি কার্ড রিডার এবং ১২৮ জিবি-র একটি পেনড্রাইভ। এ ছাড়া তিনটি ওটিজি, একটি হেডফোনও পাওয়া গিয়েছে। মিলেছে ৩১ হাজার টাকা। এত কড়াকড়ি নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে কোন ফাঁকফোকর দিয়ে এত কিছু পৌঁছে গেল আফতাবের কাছে? আফতাব ছাড়াও সুবোধ, অনীশের মতো বন্দিরাও সেলের মধ্যে কী ভাবে হাতে মোবাইল পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সূত্রের খবর, গত ২৩ অগস্টের তল্লাশির পরেই কারা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছেন, কী ভাবে আফতাবের কাছে মোবাইল পৌঁছোল জানতে। এ বার এসটিএফ খতিয়ে দেখবে গোটা বিষয়টা।