বহুপ্রতীক্ষিত ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আজ থেকে কার্যকর হল। আর প্রথম দিনেই কলকাতার জন্য সুখবর। এই চুক্তির আওতায় লন্ডনে ভারতীয় রফতানির সূচনা হল আজ কলকাতা থেকে। প্রায় ২৭ কোটি টাকার অলঙ্কার সামগ্রী কলকাতার এয়ার কার্গো কমপ্লেক্স থেকে রওনা হওয়ার মাধ্যমে গোটা দেশ থেকে এক কোটি ডলারের অলঙ্কার ব্রিটেনে রফতানির সূচনা হল। আজ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং একাধিক আমলা।
কলকাতার ছ’টি শীর্ষস্থানীয় রফতানিকারী সংস্থা সোনা, হিরে, প্ল্যাটিনাম এবং রূপোর গয়নার এই প্রথম ব্রিটেনে রফতানির সঙ্গে যুক্ত। দার্জিলিং চা, কফি এবং তিন হাজার কিলোগ্রাম বাংলার পানপাতাও এই চুক্তির আওতায় ব্রিটেনযাত্রা করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এই চুক্তির ফলে ভারতীয় বাজারে সস্তা হতে চলেছে ব্রিটেনের গাড়ি, হুইস্কি, পোশাক, জুতো-সহ আরও অনেক পণ্য। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়ে ১২,০০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে এক্স হ্যান্ডলে বার্তা দেন ভারতে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত লিন্ডি ক্যামেরন। লেখেন, ‘কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে! ব্রিটেন ও ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য এই চুক্তি নতুন যুগের সূচনা করবে’।
নয়া চুক্তির ফলে ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যে গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য হয়ে উঠবে সম্পূর্ণশুল্ক-মুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তি এবং এর সঙ্গে যুক্ত সামাজিক সুরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই সব যুগান্তকারী চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের ব্যবসা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের ১০ তারিখের পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি ভারত-ব্রিটেন অংশীদারির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও গভীর হতে চলেছে।’’ পীযূষ বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর দর্শনকে বাস্তবায়িত করতে এই চুক্তি বিশেষ ভূমিকা নেবে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন রাস্তাও খুলবে। ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশকরতে পারবে।”