Advertisement
E-Paper

পুরনো মামলায় গ্রেফতার মমতা শিবিরের নেতা, চোরবাগান নিয়ে মুখ খুলেই ধৃত? প্রতিবাদে থানায় কুণাল, বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ

মজিদ আনসারির গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থানে বসে পড়েন কুণাল ঘোষ। দাবি, চোরবাগানের ঘটনার পর প্রভাবশালী যোগ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মজিদ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:০৫
আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার।

আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার। ছবি: সংগৃহীত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নেতা মজিদ আনসারিকে তিন বছরের পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার প্রতিবাদে শুক্রবার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থানে বসে পড়েন কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পর যাঁরা মুখ খুলেছেন, প্রভাবশালীদের যোগ নিয়ে যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, মজিদ তাঁদের একজন। ওই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুণাল থানায় গেলে বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হন। কুণালের বিরুদ্ধে তাঁরা থানার বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মজিদের বিরুদ্ধে এক মহিলার শ্লীলতাহানি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। দাবি, মহিলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের ওই মামলায় মজিদ ছাড়াও অভিযোগ ছিল আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে। সেই মামলাতেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। কুণালের অভিযোগ, সাজানো মামলায় ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ধৃতের পাশে আছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে কুণাল লিখেছেন, ‘‘চোরবাগানের ঘটনায় প্রভাবশালী যোগ নিয়ে তৃণমূলের যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, প্রতিবাদ করছে, তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি, পুরনো বা সাজানো মামলায় গ্রেফতার শুরু করেছে সরকার। জোড়াসাঁকো, আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা নেমে পড়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। চোরবাগানে মাথাদের ছেড়ে পুলিশ প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধে নেমেছে।’’

কুণালের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘অন্যায় করলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। অন্যায় ভাবে কাউকে ধরা হলে সেটা আদালত দেখবে। এত ছটফট করার কী আছে?’’

গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের ঘটনার পর থেকে মণ্ডপ এবং পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মণ্ডপে ভুয়ো ঘোষণা করে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু কুণালের দাবি, মূল মাথাদের আড়াল করা হচ্ছে। আসল অপরাধীরাও শাস্তি পাচ্ছেন না। বরং যাঁরা এই ঘটনার পর প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন, তাঁদের অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। কুণাল বেশ কিছুক্ষণ একাই থানার সামনের সিঁড়িতে বসেছিলেন। পরে ওসি তাঁকে ভিতরে নিয়ে যান।

কুণাল থানায় গিয়েছেন শুনে এলাকার বিজেপি কর্মীরা সেখানে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ দেখান। কুণালকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর চোরবাগানের পুরনো পুজো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ, বিজেপি ওই কমিটির দখল নিয়েছিল। এই পুজোর সঙ্গে তমোঘ্ন ঘোষ, বিজয় ওঝার মতো নেতারা যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারী চোরবাগান পুজো কমিটির চিফ প্যাট্রন। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এই ঘটনার তদন্ত করছে। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল।

Kunal Ghosh TMC Mamata Banerjee Kolkata Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy