E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ধরা পড়লেই বাজেয়াপ্ত, বিধি ভাঙা গাড়িকে ছাড় নয় পুজোতেও

লালবাজার সূত্রের খবর, পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের অন্দরে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। তার পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছরে পুজোর রাতে আরও কঠোর হাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৮

— প্রতীকী চিত্র।

কখনও তিন জন সওয়ারি-সহ মোটরবাইক সরাসরি উড়ালপুল থেকে পড়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর রাতে। কখনও সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা মারা বাইকচালকের মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে অষ্টমীর রাতে। কোনও ক্ষেত্রে সরাসরি লরির পিছনে ধাক্কা মারা
স্কুটারচালকের মাথা এমন ভাবে থেঁতলে গিয়েছে যে, মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতেই হিমশিম খেয়েছে পুলিশ। ফি-বছর দুর্গাপুজো, কালীপুজোর রাতে এমন ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি বদলায় না। বন্ধ হয় না উৎসবের সময়ে বেপরোয়া মোটরবাইক ও স্কুটারের চলাচল। নাগরিকদের বড় অংশ এর জন্য পুলিশের ছাড় দেওয়ার মনোভাবকেই দায়ী করেন। তাঁদের দাবি, হেলমেটহীন বা তিন-চার জন সওয়ারি-সহ বাইক বা স্কুটার দেখা গেলেও পুজোর ক’দিন পুলিশ বুঝিয়ে কার্যোদ্ধারেরই পথে হাঁটে।

কিন্তু এ বার কি এই পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে? লালবাজার সূত্রের খবর, পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের অন্দরে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। তার পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছরে পুজোর রাতে আরও কঠোর হাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। হেলমেটহীন বা তিন-চার জন সওয়ারি-সহ বেপরোয়া বাইক বা স্কুটার দেখা গেলেই সেটি আটকে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। ট্র্যাফিক বিভাগের এক পুলিশকর্তার দাবি, ‘‘পুজোয় ছাড় থাকে ধরে নিয়ে এ বার যাঁরা পথে নামবেন, তাঁদের ভুগতে হবে। বিধিভঙ্গ হচ্ছে দেখা গেলেই পদক্ষেপ করা হবে। হেলমেট পরা না থাকলে নথিপত্র দেখতে চাওয়া হবে। আর যদি দেখা যায়, বৈধ নথি সঙ্গে নেই, তা হলে সেই বাইক বা স্কুটার বাজেয়াপ্ত করা হবে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, এর পাশাপাশি আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগাম চিহ্নিত করে রাখা শহরের
বেশ কিছু জায়গায় নাকা তল্লাশি চলবে। সেখানে বিধিভঙ্গকারী যানবাহন ধরা পড়লে বৈধ কাগজ না থাকলেই বাজেয়াপ্ত করা হবে। এমনিতে এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গাড়ি বা মোটরবাইক ছাড়াতে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-নগরপালের (ট্র্যাফিক) দফতরে গিয়ে। কিন্তু
লালবাজার পুজোর সময়ে বন্ধ থাকে। অর্থাৎ, পুজোর মধ্যে কোনও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হলে সেটি তৎক্ষণাৎ ছাড়ানোর সুযোগ মিলবে না। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এই কারণে এ বার এমন গাড়ি, বাইক বা স্কুটার রাখার জন্য জায়গা বেছে রাখতে বলা হচ্ছে ট্র্যাফিক গার্ডগুলিকে। সেখান থেকেই পরবর্তী সময়ে ছাড়া হবে বাজেয়াপ্ত হওয়া যানবাহন। উল্লেখ্য, অতীতেও পুলিশ এ ভাবে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। কিন্তু এর ফলে এত গাড়ি ধরা পড়ছিল যে, সেগুলি রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা মিলছিল না। এ বার তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের দাবি।

লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, এর সঙ্গে এ বছর আরও উন্নত ‘পুজো মানচিত্র’ প্রকাশ করতে চলেছে পুলিশ। তাতে শহরের নতুন পুজোগুলির নাম-সহ জায়গা যেমন চিহ্নিত করে দেওয়া হবে, তেমনই পুজোর পথ-বিধিও প্রকাশ করা হবে। সারা বছর যে পথে যান চলাচল করে, সেই পথ-বিধি কিছু ক্ষেত্রে বদলানো হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। কলকাতা পুলিশের উপ-নগরপাল (ট্র্যাফিক) সম্ভব জৈন বলেন, ‘‘ম্যাপ প্রকাশ করে সব কিছু আগাম জানিয়ে দেওয়া হবে। পথ-নিরাপত্তা বাড়াতে এ বছর নাকা তল্লাশির উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durga Puja Kolkata Police Traffic Violation Kolkata Traffic Lalbazar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy