জরুরি পরিষেবা প্রদানের জন্য লালবাজারের তরফে প্রতিটি থানাকে দেওয়া হচ্ছে বৈদ্যুতিক বা ব্যাটারিচালিত মোটরবাইক। এরই পাশাপাশি, পুলিশকর্মীরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি থানাকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে ট্যাবও। ওই ট্যাব থাকবে থানার সেই পুলিশকর্মীর কাছে, যিনি বৈদ্যুতিক মোটরবাইকের দায়িত্বে থাকবেন। বর্তমানে শহরের ৬০টি থানায় ওই বৈদ্যুতিক বাইক এবং ট্যাব পাঠানো হয়েছে। মহালয়ার আগে বাকি সব থানাতেও সেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে লালবাজার জানিয়েছে। বর্তমানে ১০০ ডায়াল চালু থাকলেও মহালয়ার আগেই রাজ্য সরকার আপৎকালীন নম্বর হিসেবে ১১২ চালু করবে।
বর্তমানে কোথাও কোনও ঘটনা বা আপৎকালীন কিছু ঘটলে নাগরিকেরা ১০০ অথবা ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই ফোন সরাসরি পৌঁছে যায় লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। এ বার থেকে কারও ফোন আসার পরে সেটি যে এলাকার ঘটনা, সেখানকার স্থানীয় থানার ট্যাবে বার্তা পাঠিয়ে দেবে লালবাজারের কন্ট্রোল রুম। এক পুলিশকর্তা জানান, যে ট্যাবে ওই মেসেজ পাঠানো হচ্ছে, সেই ট্যাবে ঘটনাস্থলের বিশদ তথ্য এবং যিনি ফোন করেছেন, তাঁর নম্বরও দেখা যাবে। এর পরে ওই বৈদ্যুতিক মোটরবাইকে করে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ট্যাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবেন।
শুধু তা-ই নয়, ওই পুলিশকর্মী কী পদক্ষেপ করলেন, তা তিনি সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট আকারে পাঠিয়ে দেবেন ওই ট্যাবের মাধ্যমে। যা পৌঁছে যাবে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। একই সঙ্গে থানাকেও তা জানানো হবে। এর ফলে বড় কোনও সমস্যা হলে থানা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে পারবে। পুলিশের দাবি, এর ফলে নাগরিক পরিষেবা আরও সুরক্ষিত হবে। সেই সঙ্গে আপৎকালীন সময়ে কাজে লেগে পড়তেও বেশি দেরি হবে না।
লালবাজার জানিয়েছে, এই ট্যাবের সাহায্যে কাজকর্ম চালু হয়ে গেলে সহজেই বোঝা যাবে, থানার পুলিশকর্মীরা কতটা দ্রুত ঘটনার খবর পেয়ে কাজে নেমে পড়ছেন। এবং সমস্যার সমাধান করতে কতটা সময় নেওয়া হচ্ছে, তা-ও পুলিশকর্তারা জানতে পারবেন লালবাজারে বসে।
প্রসঙ্গত, শহরে টহলদারির জন্য কলকাতা পুলিশের যে পিসিআর ভ্যানের বাহিনী রয়েছে, এর আগে তাদের হাতে একই ভাবে ট্যাব তুলে দেওয়া হয়েছিল। যা সংযুক্ত থাকে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে। ফলে, কোথাও কোনওগোলমালের খবর ট্যাবের মাধ্যমে এলে টহলদার পুলিশের গাড়ি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যেতে পারে। যদিও পিসিআর ভ্যান বড় গাড়ি হওয়ায় সর্বত্র ঢুকতে পারে না। তবে, এ বার বৈদ্যুতিক মোটরবাইক চালু হওয়ায় যে কোনও জায়গায় দ্রুত পৌঁছতে পারবেন পুলিশকর্মীরা। সূত্রের দাবি, বৈদ্যুতিক মোটরবাইকের পাশাপাশি পুলিশের পিসিআর ভ্যানের পরিষেবাও চালু থাকবে।