পুজোর শহরে সারা রাত লোকাল ট্রেন, মেট্রো এবং বাস চলবে শুনে উৎসাহিত হয়েছিলেন অনেকেই। বিশেষত, হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর মাধ্যমে জুড়ে যাওয়ায় এবং রাতভর লোকাল ট্রেন চলায় কলকাতার পুজোয় শহরতলির লোকজনের ভিড় অনেকটাই বেড়েছে। যদিও শনিবার রাতে চোরবাগানের ঘটনার পরে রবিবার দেখা যায়, উত্তর কলকাতায় পুজো দেখার হিড়িক কমেছে। এরই মধ্যে রেল এবং মেট্রো প্রশাসনের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে, ভিড় টানায় নজির গড়ার চেষ্টাই কি পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে?
ভিড় সামলানোর সব রকম প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে যে কোনও মুহূর্তে চলে যেতে পারে, তা মানছেন মেট্রোর আধিকারিকদের একাংশ। ফলে, চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে রবিবার মেট্রোর তরফে সতর্কতা বাড়ানো হয় এসপ্লানেড, কালীঘাট, শিয়ালদহ, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, দমদম-সহ একাধিক স্টেশনে।
এসপ্লানেড মেট্রো স্টেশনে দু’দিকের যাত্রীদের ভিড় যাতে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে সেখানে এ দিন বাড়তি রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর ব্লু লাইনের প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া তিনটি চলমান সিঁড়িই পরিকল্পনা করে একযোগে সচল রাখা ছাড়াও যাত্রীদের স্রোত যাতে নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগোয়, তা নিশ্চিত করতে বাড়তি রক্ষী মোতায়েন করা হয়।
আরপিএফ ছাড়াও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশকে এ দিন গেরুয়া টি-শার্ট পরে ভিড় সামলাতে দেখা যায়। দক্ষিণমুখী ভিড়ের অনেকটা অংশ এসপ্লানেড হয়ে সফর করলেও এ দিন উত্তর কলকাতার পুজো এড়িয়ে গিয়েছেন অনেকেই।
এ দিন সন্ধ্যায় গিরিশ পার্ক, শোভাবাজার কিংবা বেলগাছিয়া স্টেশনে গত দু’দিনের মতো ভিড় চোখে পড়েনি। ফলে, স্টেশনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের ব্যস্ততা ছিল অনেকটাই কম। বাঁশির শব্দে প্ল্যাটফর্মের হলুদ রেখা না পেরোনোর যে নির্দেশ যাত্রীদের দেওয়া হয়, এ দিন তা-ও ততটা শোনা যায়নি। মেট্রোও মোটামুটি সময়ে ছুটেছে বলেই খবর।
শুক্রবার রাতে প্রবল ভিড়ের মুখে গিরিশ পার্ক, বেলগাছিয়া, শোভাবাজার-সহ বিভিন্ন স্টেশনে যে ভাবে প্রবেশপথ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, এ দিন তেমন ঘটনা চোখে পড়েনি। চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রবিবার মেট্রো ও রেলের একাধিক স্টেশনে ফাঁকফোকর ভরাটের তৎপরতা চোখে পড়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনে যাত্রীদের বেরোনোর পথে রেলের আধিকারিকদের নজরদারি করতে দেখা যায়। ভিড় অনেকটাই কম ছিল। স্টেশনের এক থেকে সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৩০-৪০ ফুট করে দূরত্বে এ দিন রক্ষী চোখে পড়েছে।
তবে, শিয়ালদহ থেকে কিছু রুটে দু’টি ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বেশি হওয়ায় প্ল্যাটফর্মে ও ট্রেনে ভিড় ছিল বেশি। ভিড় বেড়েছে হাওড়া স্টেশনেও। হাওড়ার দিক থেকে মেট্রোয় ভিড় এ বার অনেকটাই বেড়েছে। রেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ভিড় হল জোয়ারের মতো। সতর্ক না থাকলে কোথায়, কখন আছড়ে পড়বে, বলা মুশকিল। চোরবাগানের ঘটনায় আমরা আরও সতর্ক।’’
এ দিন ই এম বাইপাস সংলগ্ন কিছু রুট ছাড়াও নিউ টাউন, বেহালা, যাদবপুরের রুটে বাসে ভিড় হলেও অন্যত্র সে ভাবে ভিড় চোখে পড়েনি। পার্ক স্ট্রিট, হাওড়া, শিয়ালদহ, ব্যারাকপুর-সহ বিভিন্ন রুটে বাস কার্যত হাতে গোনা যাত্রী নিয়ে ছুটেছে।