২২ শ্রাবণে পালিত হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। কিন্তু গোসাবায় রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বেকন বাংলোয় সরকারি উদ্যোগে কবিগুরুর মূর্তিতে একটি মালাও জোটেনি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
১৯৩২ সালের ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর স্যর ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের আমন্ত্রণে গোসাবায় এসে বেকন বাংলোয় রাত কাটান রবীন্দ্রনাথ। বছর পনেরো আগে জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন সাংসদ তরুণ মণ্ডলের উদ্যোগে এই বেকন বাংলোর সামনে রবীন্দ্রনাথের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয়। পরে গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকে বাংলোটির সৌন্দর্যায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণও শুরু হয়। টিকিটের বিনিময়ে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় এই বাংলো। বর্তমানে কার্যত বছরভর পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। প্রতি বছরই জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে কবি-মূর্তিতে সরকারি ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও কবিকে শ্রদ্ধা জানান। তবে এ বার গোসাবার রবীন্দ্র স্মৃতিরক্ষা কমিটির তরফ থেকে কয়েক জন কবির মূর্তিতে ফুল দিলেও, সরকারি কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। রবীন্দ্র স্মৃতিরক্ষা কমিটির সভাপতি অনাথ মাইতি বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জার কথা। রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত এই বাংলো দেখিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে। অথচ কবিকে ভাল ভাবে স্মরণ করা দূরে থাক, তাঁর প্রয়াণ দিবসে একটা ফুলের মালাও দেওয়া হল না!”
এই ঘটনায় ভুল স্বীকার করেছেন গোসাবার ভারপ্রাপ্ত বিডিও দেবব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “বর্তমানে গোসাবায় স্থানীয় বিডিও নেই। যুগ্ম বিডিও-র পাশাপাশি বিডিওর অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে আমাকেই। ২২শে শ্রাবণের বিষয়টা আমার মাথায় ছিল না। আগামিদিনে যাতে এই ধরনের ভুল না হয়, খেয়াল রাখব।”