ঘরে ঢুকে পড়ছে সাপ। ইতিমধ্যেই সাপ কামড়েছে এলাকার চার বাসিন্দাকে। গত দু’সপ্তাহ ধরে এলাকায় জমে হাঁটু ডোবা পাঁকের কালো জল। নিকাশির সেই জমা জলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জল ঘেঁটে ঘেঁটে অসুস্থ হচ্ছেন বাসিন্দারা। ঘরে ঘরে হচ্ছে চর্মরোগ। মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত পৌঁছতে রোগীকে ভ্যানে বা কাঁধে করে নিয়ে আসতে হচ্ছে।
এমনই দুর্ভোগের শিকার হাওড়া পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য খালিয়া, পশ্চিম পাড়া-সহ আশপাশের বাসিন্দারা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যার প্রতিবাদে কোনার কাছে বেনারস রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই মহিলা। তাঁদের দাবি, জমা জল অবিলম্বে সরিয়ে নিকাশির স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এ দিনের অবরোধে বেনারস রোডে তীব্র যানজট হয়। যা ছড়িয়ে পড়ে হাওড়ার বেলগাছিয়া পর্যন্ত।
এ দিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, চামরাইল পঞ্চায়েত লাগোয়া শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কোনা খালিয়া, পশ্চিমদাস পাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার অলিগলি হাঁটুজলে ডুবে। শিশুদের ওই নোংরা জল পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে রোজ। অভিযোগ, হাওড়া পুরসভাকে বার বার জানিয়েও কোনও ফল না হওয়ায় এ দিনের রাস্তা অবরোধের সিদ্ধান্ত।
বিক্ষোভকারী বাণী দলুইয়ের অভিযোগ, ‘‘এই এলাকায় নিকাশি বলে কিছু নেই। অথচ, পর পর নতুন বাড়ি হচ্ছে। এলাকা পরিষ্কার করার নামে জল বেরোনোর রাস্তা প্রশাসনই বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এই ভোগান্তি।’’ এলাকার বাসিন্দা মৌসুমি হাজরা বলেন, ‘‘গত ১৫ দিন ধরে জল জমে। ঘরে সাপ ঢুকে পড়ছে। বিষাক্ত পোকায় ভরে গিয়েছে। চার জনকে সাপে কামড়েছে। পুরসভা পাম্প বসিয়ে যে জল বার করবে, সেটুকু ব্যবস্থাও বার বার বলে করানো যায়নি। এর পরেও যদি জল বার করার ব্যবস্থা না হয়, আন্দোলনে নামব।’’
হাওড়া পুরসভার সংযুক্ত এলাকা বলে চিহ্নিত ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের জমা জলের সমস্যা কয়েক দশকের পুরনো। পুরসভার দাবি, চাষের নিচু জমিতে বাড়ি করার জন্য ওই সব এলাকায় সহজেই জল জমে যায়। পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘‘ওই এলাকা থেকে জল বার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু পাম্পের সাহায্যে জল তুলে সেটা ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প পথ দেখা হচ্ছে।’’
কয়েক দিন আগেই হাওড়ার দাশনগরের জমা জল বার করতে দমকলকে কাজে লাগিয়েছিল প্রশাসন। ওই পুরকর্তা জানান, এ বারেও সেই পথ নিতে হবে কিনা, তা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।