E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

যাদবপুরের বই-সংগ্রহ বাঁচাতে প্রাক্তনী-উদ্যোগ

ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন, বেঙ্গল এবং যাদবপুরের প্রাক্তনীদের মুম্বই চ্যাপ্টারটির সূচনা ১৯৫৬ সালে। গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে নানা কাজে তারা সক্রিয়।

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪০
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। — ফাইল চিত্র।

গবেষণা খাতে কেন্দ্রের রুসা প্রকল্প থেকে খাতায়-কলমে সরকারি বরাদ্দ টাকা পেতেই ঘাম ছুটছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। রোজকার প্রয়োজনে ভবন মেরামতি, পরীক্ষাগারের সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে নিরাপত্তার আয়োজনে টাকা জোগাড়েও হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এমন সময়েই প্রাক্তনীদের উদ্যোগে যাদবপুরের একটি গুরুতর সমস্যা সমাধানের দরজা খুলল।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের মুম্বই চ্যাপ্টারের উদ্যোগে শিক্ষা প্রাঙ্গণে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি (সিএল) বা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বহু দিনের একটি সমস্যা মিটতে চলেছে। সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত বলছিলেন, ‘‘কোভিডের সময় থেকেই গ্রন্থাগারের স্ট্যাক এরিয়ার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি খারাপ হয়ে পড়ে ছিল। সেখানেই নিত্য ব্যবহার্য বেশির ভাগ বই। যা পড়ুয়াদের হাতে হাতে ঘোরে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ওই সব বইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রাক্তনীদের মুম্বই চ্যাপ্টার দ্রুত সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে।’’ অন্তত ১ লক্ষ ২৫ হাজার বইয়ের সুরক্ষায় এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজে লাগবে বলে জানাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য গ্রন্থাগারিক শঙ্কুবিলাস রায়।

ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন, বেঙ্গল এবং যাদবপুরের প্রাক্তনীদের মুম্বই চ্যাপ্টারটির সূচনা ১৯৫৬ সালে। গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে নানা কাজে তারা সক্রিয়। যাদবপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৯৯১-এর স্নাতক তথা প্রাক্তনীদের মুম্বই চ্যাপ্টারের সদস্য দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘‘অন্তত ৫০০ জন সক্রিয় সদস্য আছেন মুম্বইয়ে। ব্যক্তিগত অবদান বা কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা কি গাঁটছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগার চেষ্টায় তাঁরা সর্বতো ভাবে সক্রিয়।’’ গ্রন্থাগারের সমস্যাটির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক পঠনপাঠন জড়িত বলে তাঁরা এ বার তৎপর হয়েছেন। গ্রন্থাগারের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েক লক্ষ টাকার কাজটি তাঁরাই দেখাশোনা করেছেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে আগামী পাঁচ বছরে যা করণীয়, তা-ও করছেন। যাদবপুরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘অনেক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও উদ্যোগে খরচ করার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে প্রাক্তনীরা নিজেরা উদ্যোগী হওয়ায় সব কিছু অনেক তাড়াতাড়ি হয়েছে।’’

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ঢালাও সংস্কারে অবশ্য এখনও কিছু কাজ বাকি। সাম্প্রতিক অতীতে বৃষ্টির জল ঢুকে বইয়ের তাকের ক্ষতি হয়েছে। সিএল-এর উপরতলার রিডিং রুম-সহ আরও কিছু জায়গায় এসি দরকার। দুষ্প্রাপ্য ও পুরনো বই ডিজিটাইজ় করাও বাকি। এই বিষয়টি নিয়েও প্রাক্তনীদের কেউ কেউ আগ্রহী। দিব্যেন্দু বলছিলেন, ‘‘যাদবপুরের সহ-উপাচার্যের পরামর্শে এই কাজটিতে আমরা দিশা পেয়েছি।’’ টাকার অভাবে টানাটানির পটভূমিতে আইআইটিগুলির ধাঁচে প্রাক্তনীদের বিভিন্ন ব্যাচ এবং ভারত ও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা চ্যাপ্টারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে মুশকিল আসানের পথ খুঁজছেন যাদবপুর কর্তৃপক্ষও।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Jadavpur University library

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy