রাজ্য জুড়ে স্কুলে স্কুলে শুরু হয়েছে যুব সংসদ বা ইউথ পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলী থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে স্কুলগুলিতে। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, পরিষদীয় দফতরের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতর এই প্রতিযোগিতার আয়োজক। পুরো বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগও জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ব্লক ও পুরসভা পর্যায়ে বিভিন্ন স্কুলে চলছে এই প্রতিযোগিতা। নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই স্তরে বিজয়ীরা প্রথমে যাবে মহকুমা স্তরে। সেখান থেকে বিজয়ীরা প্রতিযোগী হবে জেলা স্তরে। সব শেষে, রাজ্য স্তরে হবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। এক-একটি ব্লক বা পুরসভায় ছয় থেকে সাতটি স্কুল অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতিযোগিতার সময়সীমা ৪৫ মিনিট। বিধানসভা বা লোকসভার একটি দিনের কার্যকলাপ অভিনয় করে দেখাতে হবে পড়ুয়াদের। তাদের মধ্যেই কেউ হবে শিক্ষামন্ত্রী, কেউ মুখ্যমন্ত্রী, কেউ বা মার্শাল বা বিরোধী দলনেতা।যারা বিধানসভা বা লোকসভার কার্যক্রমের সঠিক তথ্য দেবে এবং ভাল অভিনয় করবে, সেই স্কুল বিজয়ী হবে।
শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতার সময়সীমা ৪৫ মিনিট অতিক্রম করে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, নবম শ্রেণির থেকে নিচু ক্লাসের পড়ুয়ারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না, একটি দলে থাকতে পারবে সর্বাধিক ১৫ জন। অভিযোগ, এর কোনওটিই মানা হচ্ছে না। বাঙুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘যাঁদের বিচারক করার কথা নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, তা অনেক ক্ষেত্রে পালন করা হচ্ছে না। এতে স্কুলগুলিতে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে।’’ হাওড়া সদর এলাকার একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘প্রতিযোগিতার আগে কর্মশালায় যা যা নিয়মের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলি প্রায় কিছুই মানা হচ্ছে না।’’
শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতিযোগিতার তিন জন বিচারকের মধ্যে এক জন হবেন পঞ্চায়েত বা পুরসভার প্রতিনিধি, এক জন মহকুমাশাসক বা বিডিও এবং তৃতীয় জন থাকবেন জেলা স্কুল পরিদর্শকের প্রতিনিধি। যে পুরসভা এলাকা অথবা ব্লক স্তরের স্কুলে প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বাড়ি বা কর্মস্থলের ঠিকানা সেই এলাকা তো বটেই, এমনকি সংশ্লিষ্ট জেলারও বাইরে হতে হবে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে এই নিয়ম অমান্য করায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে।
‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘কল্যাণী পুরসভার অধীনে প্রতিযোগিতা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ থাকায় আমরা তথ্যের অধিকার আইনে বিচারকদের কর্মস্থল ও বাড়ির ঠিকানার প্রতিলিপি চেয়েছি। পুরো বিষয়টি জানিয়েছি সংসদীয় বিষয়ক দফতরে ও শিক্ষা দফতরে। যেখানে যেখানে নিয়ম মানা হয়নি, সেখানে পুনরায় প্রতিযোগিতার দাবি জানাচ্ছি।’’
যদিও একটি জেলার স্কুল পরিদর্শক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যে নির্দেশাবলী আছে, তা আমরা প্রত্য়েক বিচারককে দিয়েছি। মূল্যায়ন কী ভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমাদের দিক থেকে কোনও অনিয়ম হয়নি। তবে কারও অভিযোগ থাকলে তাঁরা জানাতেই পারেন।’’