মেট্রো পরিষেবার সময় বাড়লেও ভয়াবহ কর্মী-সঙ্কট সামলে কী ভাবে এই পরিষেবা চালানো যাবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই থেকে উত্তর-দক্ষিণ শাখা ছাড়াও পূর্ব-পশ্চিম শাখায় সকাল ৬টা থেকে পরিষেবা শুরু হবে। আবার রাতের শেষ ট্রেন প্রান্তিক স্টেশন থেকে ছাড়বে সাড়ে ১০টা নাগাদ। আপাতত পরীক্ষামূলক ভাবে এই পরিষেবা শুরু করার কথা জানিয়েছে মেট্রো। নতুন ব্যবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে মেট্রোর ট্র্যাফিক বিভাগের কর্মীদের কাজের জায়গায় পৌঁছতে হবে।
আগামী সোমবার থেকে নয়া সময়সূচি মেনে পরিষেবা শুরু হলেও রাত ৯টা ২৫ মিনিটে টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাবে সব স্টেশনে। তার পরে যাত্রীদের টিকিট কাটার জন্য স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিনের উপরে নির্ভর করতে হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্টেশনে কর্মীর অভাবে টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে রাতে টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকলে যাত্রীদের কত শতাংশ বর্ধিত সময়ের পরিষেবা নিয়ে আগ্রহ দেখাবেন, সেই সংশয় থাকছেই।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ বেশি রাত পর্যন্ত পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়েও টিকিট কাউন্টার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হত। এক জন শিফ্ট ইন-চার্জ এবং এক জন কমার্শিয়াল পোর্টারের ভরসায় স্টেশন চালাতে গিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় সব স্টেশনেই একটি বা দু’টি গেট খোলা রাখা হত। যাত্রীদের বেশির ভাগ তা না জানায় প্রায়ই সমস্যায় পড়তেন। সে বার রাতের পরিষেবা যাত্রীদের নিরাপদ সফরের প্রশ্নে ভরসা অর্জন করতে পারেনি।
এ বারেও ‘শুনশান’ স্টেশন তেমন পরিস্থিতি তৈরি করবে কিনা, সেই আশঙ্কা থাকছে। কর্মী কম থাকায় দিনের বেলাতেও বেশির ভাগ স্টেশনে গড়ে একটি করে টিকিট কাউন্টার খোলা রেখে এক জন করে কর্মীকে স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাতের পরিষেবা মিটিয়ে মেট্রোকর্মীদের স্টেশন ছাড়তে সাড়ে ১১টা বাজবে। তার পরে বাড়ি ফেরা নিয়ে তাঁদের অনেকেই চাপে পড়বেন বলে মনে করছেন। একই ভাবে ভোর সাড়ে ৫টায় পৌঁছতে গিয়েও সমস্যার আশঙ্কা করছেন দূরবর্তী এলাকার মেট্রোকর্মীরা। ট্রেন ও বাসের সমস্যা তাঁদের ভোগাবে বলে আশঙ্কা থাকছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শিফ্টে কাজের বদলে তিন শিফ্টে কাজ করার পক্ষপাতী মেট্রোকর্মীরা। তাতে রাতে স্টেশনে থেকে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সুবিধার। সে ক্ষেত্রে বেশি রাত পর্যন্ত পরিষেবা চালানো কিংবা খুব ভোরে পরিষেবা শুরু করা— দু’টি কাজই সহজ হয়। কিন্তু কর্মী সংখ্যার আকালে কর্তৃপক্ষ দুই শিফ্টেই কাজ করাতে চান বলে সূত্রের খবর।
এ নিয়ে কলকাতা মেট্রোর প্রগতিশীল কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘মেট্রোর ইলেকট্রিক্যাল থেকে সিগন্যালিং, সব বিভাগেই তিন শিফ্টে কাজ হয়। সেখানে ট্র্যাফিক বিভাগে এই বৈষম্য কেন? সার্বিক ভাবে সুষ্ঠু পরিষেবার স্বার্থে ট্র্যাফিক বিভাগেও তিন শিফ্টে কাজ চলা উচিত। মেট্রো কর্তৃপক্ষ ট্র্যাফিক বিভাগে কর্মী নিয়োগ না করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন।’’
মেট্রোর আধিকারিকেরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। মেট্রোকর্তাদের একাংশের দাবি, যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পরিষেবার সময় পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে বাড়ানো হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিষেবা দেওয়া কর্মীদের দায়িত্ব।