সমাজমাধ্যমে বিলাসবহুল জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে এক নাবালিকাকে ভিন্ রাজ্যে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিল পাচারকারীরা। মাঝপথে, অর্থাৎ, কলকাতা থেকে পুণে যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে সেই কিশোরীকে উদ্ধার করল মহারাষ্ট্র ও রাজ্যের নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।মহারাষ্ট্র ও রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে বলে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার বাবা-মা। পুলিশ তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্রের পাশাপাশি মেয়েটির এক বান্ধবীর সূত্রে জানতে পারে, ওই নাবালিকা আজ়াদ হিন্দ এক্সপ্রেসে করে পুণে যাওয়ার জন্য রওনা হয়ে গিয়েছে।
গত মঙ্গলবার পুলিশ ট্রেনের অবস্থান থেকে জানতে পারে, ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুণেতে পৌঁছে যাবে ওই কিশোরী। মামলার তদন্তকারী অফিসার হাসান আলি নিজের ব্যক্তিগত পরিচিতির সূত্রে মহারাষ্ট্র পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জেনে তৎপর হয়ে ওঠে মহারাষ্ট্র পুলিশও। তারা কলকাতা-পুণে লাইনের প্রতিটি জিআরপি-কে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে মহারাষ্ট্রের বাদনেরা স্টেশনের জিআরপি ওই ট্রেনে তল্লাশি চালাতে উদ্যোগী হয়। কিন্তু ট্রেনটি তার আগেই স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। এর পরে আকোলা নামে আর একটি স্টেশনে ট্রেনটি দাঁড়াতেই তাতে উঠে তল্লাশি চালিয়ে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন জিআরপি-র অফিসারেরা। নাবালিকাকে প্রথমে হোমে রাখা হয়। পরে তদন্তকারী অফিসার হাসান আলি-সহ কয়েক জন মহারাষ্ট্রে পৌঁছে মেয়েটিকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।
ওই কিশোরীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের দাবি, তাকে সমাজমাধ্যমে বিলাসবহুল জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়েছিল বিহারের ছাপরা জেলার বাসিন্দা এক যুবক। মেয়েটিকে সে বলেছিল, পুণেতে গেলে সে-ও ওই রকম জীবন যাপন করতে পারবে। সেই মতো পুণের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে প্রায় সারা ক্ষণই নাবালিকা ফোনে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ট্রেনের টিকিটের টাকাওওই যুবক অনলাইনে পাঠিয়েছিল মেয়েটিকে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্তাদের বক্তব্য, এখন নারী-পাচার চক্রের পান্ডারা নতুন ধরনের কৌশল নিচ্ছে। গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় নিজেরা এ রাজ্যে আসছে না। তার বদলে নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ও টাকাপয়সা পাঠিয়ে মেয়েদের নিজেদের ঘাঁটিতে ডেকে নিচ্ছে। এই ঘটনায় ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত যুবককে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ফোনের সংযোগের নথিতে দেওয়া ঠিকানায় তাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তবে, তাদের তদন্ত অব্যাহত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ আনন্দ বলেন, ‘‘নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু পাচার-চক্রের পান্ডাদের গ্রেফতার করাটা অত্যন্ত জরুরি। আপাতত তাদের খোঁজ চলছে।’’